পর্তুগালের হোঁচট, কংগোর সাথে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি রোনালদোদের

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড গড়া ষষ্ঠ বিশ্বকাপ যাত্রা মোটেও সুখকর হলো না। ‘কে’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে বাধ্য হয়েছে পর্তুগাল। ইতিহাসের প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে কোনো পয়েন্ট অর্জন করে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিল কঙ্গো। ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে ফেরা দলটি তাদের দারুণ লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য পর্তুগালের জন্য ছিল স্বপ্নের মতো। ষষ্ঠ মিনিটে পেদ্রো নেতোর নিখুঁত ক্রসে জোরালো হেডে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন হোয়াও নেভেস। মনে হচ্ছিল, বড় ব্যবধানেই জয় তুলে নেবে পর্তুগিজরা। তবে বলের দখল বেশি থাকলেও আক্রমণে ধার ছিল না তাদের। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে কঙ্গো তাদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি আদায় করে নেয়। ইয়োয়ান উইসার দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ালে গ্যালারিতে কঙ্গোর সমর্থকদের মাঝে বাঁধভাঙা উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে।

চল্লিশ বছর বয়সী রোনালদো এই ম্যাচে অনেকটা নিষ্প্রভ ছিলেন। আগের দিন লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে যেভাবে আলো ছড়িয়েছিলেন, রোনালদো তার ধারেকাছেও যেতে পারেননি। ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওয়ের বাড়ানো বল থেকে বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগ পেলেও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন সিআর সেভেন। এছাড়া হোয়াও কানসেলোর একটি ওভারহেড কিক জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে কঙ্গোর অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার সেড্রিক বাকাম্বু পর্তুগিজ রক্ষণভাগকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। তার নেওয়া একটি শট গোলপোস্টের কোণায় লেগে ফিরে আসলে বেঁচে যায় পর্তুগাল। দলের এমন নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সে ডাগআউটে থাকা কোচ রবার্তো মার্তিনেজ ছিলেন বেশ উদ্বিগ্ন। প্রথমার্ধ শেষে বার্নার্ডো সিলভাকে তুলে নেওয়াটাও ছিল অনেকটা আক্ষেপেরই প্রতিচ্ছবি।

পর্তুগালের এই ম্যাচে বিষাদময় আবহও ছিল। গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সতীর্থ দিয়োগো জোতার স্মরণে পর্তুগিজ খেলোয়াড়রা হাতে বিশেষ ব্যান্ড পরে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু মাঠের খেলায় সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। কনসেইসাওয়ের হতাশা আর গ্যালারিতে ভিআইপি বক্সে বসা পেপের বিরক্তিকর চাহনি বলে দিচ্ছিল, এই ড্র পর্তুগালের জন্য কোনোভাবেই সন্তোষজনক নয়। নিজেদের দেশে ইবোলা মহামারির মতো প্রতিকূল পরিস্থিতি পেরিয়ে বিশ্বকাপে আসা কঙ্গো এই পয়েন্টকে দেখছে তাদের ফুটবল ইতিহাসের সেরা অর্জন হিসেবে।

০%
০%
০%
০%