ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে সোমবার যেন নাটকের মঞ্চ তৈরি হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর ভাগ্যনির্ধারণী পেনাল্টি শুটআউটে বড়সড় অঘটনের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। জার্মানি ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার ম্যাচে রোমাঞ্চের চূড়ান্ত পর্যায় দেখা যায়। নির্ধারিত সময়ে উভয় দল একটি করে গোল করলেও ম্যাচের শেষ দিকে ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে জোনাথান তার গোলটি বাতিল করা হয়, কারণ গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের ওপর ফাউল করেছিলেন ভালদেমার আন্তন। এরপর পেনাল্টি শুটআউটে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিল দুটি শট ঠেকিয়ে দলকে ৪-৩ ব্যবধানে জয় এনে দেন। এই পরাজয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো টাইব্রেকারে হারের তেতো স্বাদ পেল শক্তিশালী জার্মানি।
দিনের অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল মরক্কো ও নেদারল্যান্ডস। উত্তেজনায় ঠাসা এই লড়াইয়ের শেষ কয়েক মিনিটে মরক্কো গোল করে ১-১ সমতায় ফেরে এবং খেলা গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে নিজেদের স্নায়ু ধরে রেখে ৩-২ ব্যবধানে ডাচদের হারিয়ে মাঠ ছাড়ে মরক্কোর ফুটবলাররা।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট অমীমাংসিত থাকলে ম্যাচের ফয়সালা করতে অতিরিক্ত সময়ের আশ্রয় নেওয়া হয়। সাধারণত ৩০ মিনিটের এই অতিরিক্ত সময়কে ১৫ মিনিটের দুটি অর্ধে ভাগ করা হয়। যদি এই অতিরিক্ত সময়েও কোনো বিজয়ী নির্ধারিত না হয়, তবেই পেনাল্টি শুটআউটের নিয়ম কার্যকর হয়। নিয়ম অনুযায়ী, রেফারির কয়েন টসে জয়ী দল ঠিক করে কোন গোলপোস্টে শট নেওয়া হবে এবং কোন দল আগে শট নেবে।
পেনাল্টি শুটআউটের প্রাথমিক পর্বে প্রতিটি দল পাঁচজন করে খেলোয়াড় নির্বাচন করে। কেবল অতিরিক্ত সময়ের শেষ বাঁশি বাজার সময় মাঠে থাকা খেলোয়াড়রাই শট নেওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন। পাঁচ শট শেষেও যদি স্কোর সমান থাকে, তবে শুরু হয় সাডেন ডেথ বা হঠাৎ মৃত্যুর রোমাঞ্চকর পর্ব। সেখানে প্রতি রাউন্ডে একটি করে শট নেওয়া হয় এবং কোনো এক পক্ষ গোল করতে ব্যর্থ হলে অপর পক্ষ বিজয়ী ঘোষিত হয়। গোলরক্ষককে শট নেওয়ার আগ পর্যন্ত গোললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তবে তিনি পার্শ্বীয় নড়াচড়া করতে পারেন। এই নিয়মাবলিই ফুটবল বিশ্বের স্নায়ুক্ষয়ী পেনাল্টি শুটআউটকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।