মায়া বুশারের সেঞ্চুরিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের রেকর্ড রান তাড়া করে জয়

লেস্টারের গ্রেস রোডে আয়ারল্যান্ডের ছুড়ে দেওয়া বড় লক্ষ্যকে নিমিষেই ধুলোয় মিশিয়ে দিল ইংল্যান্ড। ২৮২ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মায়া বুশিয়ারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে ইংল্যান্ড তাদের ইতিহাসের সফলতম ওয়ানডে রান তাড়া সম্পন্ন করেছে। ৩৯তম ওভারের প্রথম বলেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে স্বাগতিকরা আইরিশদের ৬ উইকেটে পরাজিত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইরিশদের ইনিংসের প্রথমার্ধ ছিল দারুণ আশাব্যঞ্জক। অ্যামি হান্টার ও গ্যাবি লুইসের ১৫২ বলে ১৩৬ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি দলকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করায়। দুজনেই ষাটের কোটা স্পর্শ করেন এবং সম্মিলিতভাবে ১৩টি চার হাঁকান। যদিও ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে আইরিশরা কিছুটা চাপে পড়েছিল, তবে লিয়া পল ও রেবেকা স্টোকেলের ৭১ বলে ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেয়। শেষ ৬০ বলে ৭৭ রান তুলে আয়ারল্যান্ড ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৮১ রানের লড়াকু পুঁজি গড়ে। আইরিশদের হয়ে গ্যাবি লুইস ৬৯, অ্যামি হান্টার ৬২ ও রেবেকা স্টোকেল অপরাজিত ৫৪ রান করেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে চার্লি ডিন ও ইজি ওং দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজ প্রদর্শন করেন। মায়া বুশিয়ার ও সোফিয়া ডাংকলি উদ্বোধনী জুটিতে ১১৮ বলে ১৪৩ রান তুলে ম্যাচ থেকে আইরিশদের ছিটকে দেন। বুশিয়ার ৯৫ বলে ১০৪ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল ১১টি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি। ডাংকলি ৬১ বলে ৭৩ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন। ষষ্ঠ ওভারে জেন ম্যাগুইয়ারের ওপর চড়াও হয়ে টানা চার বলে চার মেরে বুশিয়ার নিজের লক্ষ্য স্পষ্ট করে দেন। ডাংকলি ৪০ বলে এবং বুশিয়ার ৫৩ বলে নিজেদের অর্ধশতক পূর্ণ করেন।
কারা মারে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে আইরিশদের ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের জয়ের পথে বাধা হতে পারেননি। বুশিয়ার তার ৯১ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর আউট হলেও অ্যালিস ক্যাপসির অপরাজিত ৪১ রান এবং ফ্রেয়া কেম্পের ২২ বলে ৩৬ রানের ঝড়ো ইনিংস দলকে দ্রুত জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। ৩৪তম ওভারেই ইংল্যান্ড দলীয় রান ২৫০ অতিক্রম করে। শেষ পর্যন্ত ৩৮.১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৮৩ রান তুলে ইংল্যান্ডের দুর্দান্ত জয় নিশ্চিত হয়। পরাজয়ের ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের সেরা বোলার কারা মারে ৫৮ রানে ৩টি উইকেট পান।
