গলের ২২ গজে ফর্মে ফেরার হুঙ্কার প্রসিধ কৃষ্ণার আস্থার প্রতিদান দিলেন অধিনায়ক গিলের

গলে টেস্টের কয়েক দিন আগে ভারতীয় দলের অধিনায়ক শুভমান গিল প্রসাদ কৃষ্ণের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেছিলেন, তার দেখা সেরা ফর্মে আছেন এই পেসার। কর্ণটক থেকে উঠে আসা এই বোলারের উচ্চতা এবং বাড়তি বাউন্স কাজে লাগানোর ক্ষমতার ওপর দলের যে আস্থা রয়েছে, গলের মাঠে তা যেন হাতেনাতে প্রমাণ করলেন প্রসাদ। জাসপ্রিত বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজের পর ভারতের পেস বোলিংয়ের পরবর্তী সারিতে নিজের জায়গা পোক্ত করার লক্ষ্যে প্রসাদের এই পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই বছরে নেট সেশন এবং ম্যাচের পরিকল্পনায় প্রসাদকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন গিল। দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুতে কিছুটা ব্যয়বহুল বোলিং করলেও গলের ম্যাচে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে। দলের থিংক-ট্যাংক যখন চাপের মুখে নির্ভরযোগ্য বোলার খুঁজছিল, তখন প্রসাদ নিজেকে নতুন করে মেলে ধরেন। বিশেষ করে চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে কামিন্দু মেন্ডিসকে সাজঘরে ফেরানোর সময় তার বোলিংয়ে ছিল গিলের প্রত্যাশার প্রতিফলন। রাউন্ড দ্য স্টাম্প থেকে লেন্থ ডেলিভারিতে মেন্ডিসকে পরাস্ত করে তিনি দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ নিশ্চিত করেন।
ম্যাচে প্রসাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি ৫ ওভারের একটি স্পেলে মাত্র ৯ রান দিয়ে ১ উইকেট শিকার করেন, যেখানে ৫টি ওভারই ছিল মেইডেন। দিনের শেষভাগে আরও ৩ ওভার বোলিং করে তিনি কোনো রান না দিয়ে চাপ বজায় রাখেন। পুরো ম্যাচে তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ১০ ওভার, যার মধ্যে ৩টি মেইডেন, ১৬ রান দিয়ে ২ উইকেট। তার শিকার হওয়া দুটি উইকেটই ছিল বাঁহাতি ব্যাটারের। নিরোশান ডিকভেলাকে বাউন্সারে আউট করার দৃশ্যটি তার দক্ষতার পরিচয় দেয়।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রসাদ ৬০টি বলের মধ্যে ৪১টি করেছেন ডানহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে, যার মধ্যে অফ-স্টাম্পের বাইরের চ্যানেলে পিচ করা ২৯টি বলে তিনি মাত্র ৯ রান দিয়েছেন। সংক্ষিপ্ত বল বা বাউন্সারের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন নিখুঁত; ৩১টি এমন ডেলিভারিতে তিনি মাত্র ৭ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন দুটি উইকেট। মানব সুথারের ২০ ওভারের বেশি বোলিং এবং ৬ উইকেট শিকারের দিনে প্রসাদ নিজেকে একজন কিপটে বোলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
অক্টোবরে নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতের পরবর্তী টেস্ট অ্যাসাইনমেন্টের আগে বুমরাহ, আকাশ দীপ, নীতিশ রেড্ডি এবং গুরনুর ব্রারের মতো বোলারদের ভিড়ে প্রসাদ কৃষ্ণ এখন নিজের জায়গা ধরে রাখার লড়াইয়ে। গলের এই পারফরম্যান্স কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল কি না, তা প্রমাণ করার জন্য প্রসাদের সামনে পরবর্তী টেস্টটি একটি বড় সুযোগ। তবে গলে তিনি যে বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে ভারতের পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত।
