৪০ কোটি টাকা লোকসানের জেরে বিপিএল আয়োজন অনিশ্চিত, কঠোর অবস্থানে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-২০ টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চলতি বছর আয়োজনের কোনো সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, গত দুই মৌসুমে বিপিএলের মাধ্যমে বোর্ডের প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এমন আর্থিক ক্ষতির বোঝা মাথায় নিয়ে তাড়াহুড়ো করে টুর্নামেন্ট আয়োজনে আগ্রহী নন তিনি।
বিসিবি সভাপতি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বোর্ডের লাভ হওয়ার কথা, উল্টো লোকসান হওয়াটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রতি বছর বিপিএল আয়োজন করাটা বোর্ডের জন্য জরুরি নয়। প্রয়োজনে ৬, ১২ বা ২৪ মাস সময় নিয়ে টুর্নামেন্টটিকে সঠিক পথে ফেরাতে চান তিনি। বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বকেয়া পাওনা ও ব্যাংক গ্যারান্টিসহ বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে কাজ করছে বোর্ড।
তামিম ইকবাল আরও জানান, টুর্নামেন্টের মান বজায় রাখতে তিনি এপ্রিল-মে মাসের মধ্যেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করতে চান। এতে কোনো দল নিয়ম ভাঙলে বা খেলা চালিয়ে যেতে ব্যর্থ হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাতে তিন থেকে চার মাস সময় থাকবে। তিনি জানান, ছয়টি দলের মধ্যে তিন থেকে চারটি দলের নিয়ম ভঙ্গের রেকর্ড রয়েছে, যা টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে। এছাড়া, বিপিএলে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি বিসিবি সভাপতি। তবে এ ক্ষেত্রে দেশের আইন ও বোর্ডের নীতিমালা কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।
বিপিএল আয়োজিত না হওয়ায় স্থানীয় ক্রিকেটাররা যে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, সে বিষয়টিও স্বীকার করেছেন তামিম। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে ক্রিকেটারদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে এবং তারাও বিসিবির এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা অনুধাবন করতে পারছেন। তবে ভবিষ্যতে বিপিএলকে এমন একটি ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চান যাতে দেশ ও বোর্ড গর্ববোধ করে।
এদিকে, বিসিবির অভ্যন্তরীণ ঘরোয়া ক্যালেন্ডারের কাজ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, ২৮ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-১৭, ১৯ ও ২৩ বছর বয়সীদের নিয়ে একটি গেম ডেভেলপমেন্ট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়সূচির কারণে সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত সিরিজ পুনর্নির্ধারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তামিম ইকবাল জানান, ভারত সিরিজ নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সিরিজের তারিখ পরিবর্তনের বিষয়টি খোলা রাখা হয়েছে। সিরিজের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পরই গেম ডেভেলপমেন্ট টুর্নামেন্টের ভেন্যু বা তারিখ প্রয়োজনে পরিবর্তন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
