ডারউইনের মহাকাব্যিক জয়ের পর ম্যাকায়ে নতুন চ্যালেঞ্জের সামনে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া

ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ের এক সপ্তাহ পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের হাতছানি এখন বাংলাদেশের সামনে। ডারউইনের সেই স্মরণীয় জয় কেবল ক্রিকেট বিশ্বের হৃদয় জয় করেনি, বরং অস্ট্রেলিয়া দলের আধিপত্য নিয়েও তৈরি করেছে নানা প্রশ্ন। যদিও অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বিষয়টিকে বড় কোনো বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন না, বরং ডারউইনের পিচে বাংলাদেশের সামগ্রিক আধিপত্যের প্রশংসা করেছেন তিনি। উভয় দলের অধিনায়ক এখন ডারউইনের স্মৃতি পেছনে ফেলে ম্যাকাইয়ের নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত।
কুইন্সল্যান্ডের ম্যাকাইয়ে আবহাওয়া ডারউইনের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। তীব্র গরম ও আর্দ্রতার পরিবর্তে এখানে বিরাজ করছে শীতের আমেজ। হারুপ পার্ক স্পোর্টস কমপ্লেক্সের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় হতে যাওয়া এই টেস্টটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বাদশ ভেন্যু হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাবে। কিউরেটরের ভাষ্যমতে, এখানকার উইকেট হবে গতিময়, যেখানে অজি বোলাররা বাড়তি বাউন্স কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন। যদিও সপ্তাহান্তে কিছুটা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর ক্ষেত্রে তা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া তাদের একাদশে এনেছে একটি পরিবর্তন। দীর্ঘ সময় পর ম্যাথু রেনশ ওপেনিংয়ে ফিরেছেন, যা জেক ওয়েদারাল্ডের জায়গা নিয়েছে। অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন দলে ট্রাভিস হেড, মারনাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন এবং জশ হ্যাজলউড থাকছেন। দলের স্পিন আক্রমণের ভরসা হিসেবে নাথান লায়নকে একাদশে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ শিবিরে বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে শরিফুল ইসলামের অন্তর্ভুক্তি বোলিং লাইনআপে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের তত্ত্বাবধানে শরিফুলকে নতুন বলে কার্যকর ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তিন পেসার ও দুই স্পিনারের ফর্মেশনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করায় তাইজুল ইসলাম বা শরিফুলের মধ্যে একজনকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি এখনো আলোচনায় রয়েছে। ঘাড়ের ইনজুরি কাটিয়ে তানজিদ হাসান অনুশীলনে ফিরেছেন এবং তার প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরির ফর্ম ধরে রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ হিসেবে সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম অথবা শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ এবং এবাদত হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। ডারউইনের অবিস্মরণীয় জয়কে পুঁজি করে টাইগাররা এখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জয়ের অসাধ্য সাধনের লক্ষ্যে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছে।
