ওকল্যান্ডে বিধ্বংসী সেঞ্চুরি আন্দ্রিজ গাউসের ইতিহাস গড়া ১৩২ রানের ঝড়ে কাঁপল এমএলসি

যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটের ইতিহাসে নাম লেখালেন আন্দ্রিস গাউস। ওকল্যান্ড কোলিজিয়ামের সেই স্মরণীয় রাতে ৫১ বলে ১৩২ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি হয়ে উঠলেন এমএলসি’র ইতিহাসে প্রথম স্থানীয় ব্যাটার, যিনি স্পর্শ করলেন তিন অঙ্কের জাদুকরী মাইলফলক। এর আগে কোরি অ্যান্ডারসন, মোনাক প্যাটেল কিংবা তাজিন্দর সিংয়ের মতো ব্যাটাররা শতকের খুব কাছে গিয়েও ফিরতে হয়েছিল হতাশ হয়ে। এমনকি গত সপ্তাহেই গাউস নিজে ৯৬ রানে আউট হয়ে ইতিহাস গড়ার সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন। তবে ওকল্যান্ডে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন কেন তাকে বর্তমানে মার্কিন ক্রিকেটের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার বলা হয়।
এমআই নিউইয়র্কের বিশাল ২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নামার আগে ড্রেসিংরুমে এক দারুণ মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। কিংবদন্তি রিকি পন্টিং ২০০৬ সালের জোহানেসবার্গ টেস্টের সেই বিখ্যাত ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে ড্রেসিংরুমে ঢুকে সতীর্থদের বলেছিলেন, তারা ১৫ রান পিছিয়ে আছে। এই রসিকতা দলের খেলোয়াড়দের স্নায়বিক চাপ কমিয়ে দেয়। পন্টিংয়ের সেই মন্ত্র যেন গাউসের ব্যাটে নতুন শক্তি যোগায়। মাঠে নেমে তিনি যখন একের পর এক ছক্কা হাঁকাচ্ছিলেন, তখন কিংবদন্তি অ্যালান ডোনাল্ডের সেই পুরনো মন্তব্যটিই বারবার মনে পড়ছিল—অনেকেই তাকে ‘দরিদ্রের রোহিত শর্মা’ বলে অভিহিত করতেন। কিন্তু সেই রাতে ওকল্যান্ডে তাকে সত্যিকারের ‘হিটম্যান’ রূপে দেখা গিয়েছিল।
এই শতক কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি আন্দ্রিস গাউসের পাঁচ বছরের এক দীর্ঘ সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি। ২০২১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর পর থেকেই তিনি নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন। যেখানে অনেক পেশাদার ক্রিকেটার সুযোগের অভাবে বা অনিশ্চয়তার কারণে ক্রিকেট ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকেছেন, সেখানে গাউস নিজের লক্ষ্যের প্রতি ছিলেন অবিচল। দক্ষিণ আফ্রিকায় যে ব্যাটারের গড় ছিল মাত্র ১২, সেই খেলোয়াড়ই আজ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অন্যতম নির্ভরযোগ্য নাম। পিএসএল, সিপিএল কিংবা আবুধাবি টি-টেন লিগে নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি।
গাউসের এই বিবর্তন কেবল ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি মার্কিন দলের ব্যাটিংয়ের ধরনেই এনেছে আমূল পরিবর্তন। তিনি যখন যুক্তরাষ্ট্রে আসেন, তখন টি-টোয়েন্টির আধুনিক মেজাজের সাথে দলের ব্যাটিং অর্ডার সেভাবে মানিয়ে নিতে পারেনি। গাউস সেই সংস্কৃতি বদলে দিয়েছেন। তার নির্ভীক ব্যাটিং আর চাপ সামলে খেলার ক্ষমতা নতুনদের সাহস জুগিয়েছে। এমনকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডার বিপক্ষে জয় কিংবা পাকিস্তানের বিপক্ষে অঘটন ঘটানোর পেছনেও ছিল তার বড় অবদান।
এখন নিজের ওয়ানডে ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তায় থাকলেও, নিজের সামর্থ্যের ওপর আস্থার কমতি নেই গাউসের। তিনি খোলাখুলিই জানিয়েছেন, ইউএসএ ক্রিকেট চাইলে তিনি আছেন, তবে না থাকলেও তার আক্ষেপ নেই। কারণ, বিশ্বমঞ্চে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তিনি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। এমএলসি লিগের ইতিহাসে অনেক রেকর্ড আসবে-যাবে, অনেক ব্যাটার শতক হাঁকাবেন; কিন্তু প্রথম স্থানীয় সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে আন্দ্রিস গাউসের নাম ইতিহাসের পাতায় চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।
