ফিল্ডিংয়ে চরম ব্যর্থতায় ভারতের চিন্তার পাহাড় সামনে কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় হারমানপ্রীতরা

নালাবিদদের মধ্যে একটি প্রাচীন প্রবাদ প্রচলিত আছে, সমুদ্রযাত্রার সাফল্য বিচার করা হয় দুইভাবে। প্রথমত, জাহাজটি গন্তব্যে পৌঁছাল কি না এবং দ্বিতীয়ত, গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় জাহাজটির অবস্থা কেমন ছিল। বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেট দলের পরিস্থিতি অনেকটা তেমনই। তারা প্রত্যাশিত জয়গুলো তুলে নিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে রয়ে গেছে অসংখ্য ছিদ্র। নড়বড়ে মিডল অর্ডার, স্থিতিশীল একাদশের অভাব, পেস বোলিংয়ের ধারহীনতা এবং সহজ সুযোগ হাতছাড়া করার প্রবণতা—সব মিলিয়ে ভারতের এই জয়যাত্রা যেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ছয় উইকেটের জয়ে মাঠ ছাড়লেও, ফিল্ডিংয়ের বেহাল দশা কোচিং স্টাফদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
বৃহস্পতিবারের ম্যাচে ফিল্ডিংয়ের যে চিত্র দেখা গেল, তা ছিল রীতিমতো হতাশাজনক। মাত্র ১২ বলের ব্যবধানে চারটি ক্যাচ মিস করে ভারত। নন্দিনী শর্মার হাত থেকে ফসকে যাওয়া সহজ ক্যাচটি ছিল সেই তালিকারই অন্যতম। অথচ নেটে অনুশীলনের সময় এই খেলোয়াড়রাই নিখুঁত পারফরম্যান্স উপহার দেন। কিন্তু মূল মঞ্চে নামলেই যেন তাদের আঙুলগুলো মাখনের মতো পিচ্ছিল হয়ে যায়। ইয়স্তিকা ভাটিয়া থেকে শুরু করে রাধা যাদব—তালিকাটা বেশ লম্বা। পরিসংখ্যান বলছে, কেবল এই টুর্নামেন্টেই ভারত সাতটি ক্যাচ ফেলেছে। গত তিন ম্যাচে ফিল্ডিংয়ের এই দৈন্যদশা ভারতের বোলারদের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
পরিসংখ্যানের খাতা উল্টালে দেখা যায়, ২০২৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ২৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারত মোট ৪৬টি ক্যাচ মিস করেছে, যা এই সময়ে অংশগ্রহণকারী সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। তাদের ক্যাচিং দক্ষতা মাত্র ৬৯.৩ শতাংশ, যা চলমান প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। যদিও ফিল্ডিংয়ের এই ভুলগুলো পাকিস্তানের বিপক্ষে বা বাংলাদেশের বিপক্ষে হারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি, তবে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন ভুল করলে সেমিফাইনালের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হতে পারে।
রাধা যাদব অবশ্য পরিস্থিতির দায় অনেকটা প্রতিকূল আবহাওয়া আর সূর্যের আলোর ওপর চাপিয়েছেন। কিন্তু হারমানপ্রীত কৌর বিষয়টি দেখছেন ভিন্নভাবে। তিনি স্বীকার করেছেন, ফিল্ডিংয়ের উন্নতির জন্য কঠোর পরিশ্রম করা হচ্ছে, তবুও ম্যাচে কেন এমন বিপর্যয় ঘটছে, তার সদুত্তর নেই কারও কাছে। ভারতীয় অধিনায়কের ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ভারতের এই ‘ফুটো জাহাজ’ কতটা ঝড় সামলাতে পারবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ভারতের সামনে কেবল একটিই পথ খোলা—ভুলগুলো দ্রুত মেরামত করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের সেরা ক্রিকেটটুকু উজাড় করে দেওয়া।
