নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বড় পরীক্ষার আগে ব্যাটিং পজিশন নিয়ে ভারতের মধুর সমস্যায় টিম ম্যানেজমেন্ট

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনুশীলনের নেটে বেশ কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হলো রিচা ঘোষকে। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের রেশ না কাটতেই মঙ্গলবারের নেট সেশনে নন্দিনী শর্মা ও শেফালি ভার্মার তোপের মুখে পড়েন তিনি। বিশেষ করে একজন স্থানীয় বোলারের বাউন্সারে ব্যাট খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে দেখা যায় তাকে। বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল তার চোখেমুখে, এক পর্যায়ে ব্যাট বদলে আবারও মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। নেদারল্যান্ডস ম্যাচে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে মরিয়া ভারত দলের জন্য ব্যাটিং অর্ডারের এই অনিশ্চয়তা যেন এক বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই নেট সেশনেই অনুশীলনে দেখা যায় ৩১ বছর বয়সে জাতীয় দলে ফেরা ভারতী ফুলমালিকে। তার ব্যাটিংয়ের ধরন দেখে প্রধান কোচ অমল মুজুমদারকে খুব একটা সন্তুষ্ট মনে হয়নি। বিশেষ করে লেগ সাইডে তার একটি শটকে কোচ ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেন। দলের প্রথম সারির ব্যাটারদের ছন্দে ফেরার লড়াইয়ের মাঝে ফুলমালিকে ঘিরে প্রত্যাশা অনেক, কারণ ঘরোয়া ক্রিকেট ও উইমেনস প্রিমিয়ার লিগে তার শক্তির প্রদর্শনী ছিল নজরকাড়া। তবে একাদশে জায়গা ধরে রাখতে তাকে আরও দায়িত্বশীল ও কৌশলী হতে হবে।
অন্যদিকে, দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা ইয়াস্তিকা ভাটিয়াও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই। ইংল্যান্ড সিরিজের পর ওয়ার্ল্ড কাপের প্রস্তুতি ম্যাচেও তার ব্যাটিং পারফরম্যান্সে ছিল অসামঞ্জস্যতা। পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে ফুলমালি ব্যর্থ হওয়ার পর নেদারল্যান্ডস ম্যাচে ইয়াস্তিকাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনিও চতুর্থ বলেই উইকেট দিয়ে বসেন। এই দুই ব্যাটারের আসা-যাওয়ার মিছিলে ভারতের তিন নম্বর পজিশনটি এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। এর ফলে হারমানপ্রীত কৌর কিংবা জেমিমাহ রদ্রিগেজকে হয়তো তাদের সহজাত পজিশনের বাইরে ব্যাট করতে হতে পারে।
রিচা ঘোষের ব্যাটিং ফর্ম বাদে ভারতের মিডল অর্ডার এখনো নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। সাত নম্বরের পরের ব্যাটারদের ওপর খুব একটা ভরসা করার মতো শক্তিও নেই দলের। তবে ভারতীয় দলের বোলিং কোচ আভিশকার সালভি এসব উদ্বেগকে উড়িয়ে দিয়েছেন। শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তিনি জানান, প্রতিপক্ষ ও কন্ডিশন অনুযায়ী একাদশ নির্ধারণ করাই তাদের মূল কৌশল। প্রতিটি ম্যাচেই নতুন পরিকল্পনা নিয়ে নামছে ভারত।
সালভি আরও বলেন, ব্যাটারদের পজিশন নয়, বরং পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী খেলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে কখন আগ্রাসী হতে হবে আর কখন ইনিংস মেরামত করতে হবে, তা নিয়ে দলের সবাই অবগত। প্রস্তুতি ক্যাম্প ও সিমুলেশন অনুশীলনের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের ভূমিকা স্পষ্ট করা হয়েছে। ঝুঁকি নিতে গিয়ে কেউ ব্যর্থ হতে পারেন, তবে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে সাফল্যের দেখা মিলবে বলেই বিশ্বাস কোচিং প্যানেলের। টুর্নামেন্টের এই উত্তেজনাকর পর্যায়ে নিজেদের সেরা একাদশ খুঁজে পাওয়া ও ব্যাটারদের দায়িত্ববোধই ভারতকে তাদের প্রথম টি-টোয়েন্টি শিরোপার স্বপ্ন পূরণে পথ দেখাবে।
