পার্থে অ্যাশেজে ট্রাভিস হেডের ঝড়: ওপেনিংয়ে নেমে ১২৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস

অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার ট্রাভিস হেডের ঝড়ো ইনিংস নতুন নয়। তবে পার্থে অ্যাশেজের টানটান উত্তেজনাপূর্ণ রান–তাড়ায় তার ১২৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার। শুধু দ্রুত রানের জন্য নয়, বরং চতুর্থ ইনিংসে, দুই দিনের অ্যাশেজ টেস্টে এমন সাহসী ব্যাটিং—সব মিলিয়ে এটি ছিল তার দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির এক দুর্দান্ত প্রকাশ।

বিজ্ঞাপন

অনেক দিন ধরেই হেড দলে ওপেনার হিসেবে সুযোগ পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন। ডেভিড ওয়ার্নারের অবসর শূন্যতা তৈরি করলেও দলের নেতৃত্ব বিভিন্ন কম্বিনেশন পরীক্ষা করছিল। তবে হেড নিঃশব্দে নিজের ইচ্ছা জানিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, “অন্যান্য ফরম্যাটে আমি ওপেন করেছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও কিছুটা করেছি। তাই সুযোগ থাকলে ওয়ার্নারের মতোই ভূমিকা রাখতে পারি ভেবেছিলাম। তবে তিন, চার, পাঁচ নম্বরে আমাদের কম্বিনেশন ভালো কাজ করেছে বলেও জানতাম।”

মজার বিষয় হলো, তিন জন মধ্য–ক্রমের ব্যাটারই টেস্টে ওপেন করার অভিজ্ঞতা রাখেন। হেডও এর আগে সাব–কন্টিনেন্টে আট ইনিংসে ওপেন করেছিলেন। তাই কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড এবং অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সঙ্গে তার আলোচনা ছিল খোলামেলা। হেড বলেন, “যদি দলের প্রয়োজন হয়, আমি সবসময় প্রস্তুত। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সঠিক।”

দ্বিতীয় দিনের টি-ব্রেক শেষে অস্ট্রেলিয়ার সামনে দাঁড়ায় ২০৫ রানের লক্ষ্য, যা ছিল ম্যাচের সর্বোচ্চ স্কোর তাড়ার চ্যালেঞ্জ। পিচ ছিল কঠিন, ওপেনিং জুটির নির্বাচন ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। উসমান খাওয়াজার পিঠের চোট আবার ফিরে আসায় অভিষিক্ত জেক ওয়েদারাল্ডের সঙ্গে তাকে ওপেন করানো সম্ভব হচ্ছিল না। এমনকি নতুন বলে ইংল্যান্ডকে ক্লান্ত করতে নাথান লায়নকে ওপেন করানোর কথাও উঠেছিল। ঠিক তখনই এগিয়ে আসেন হেড।

বিজ্ঞাপন

স্টিভ স্মিথ বলেন, “টি শেষে আমরা ভাবছিলাম কাকে ওপেন করানো যায়। তখন হেডি বলল— ‘আমি করব, আমারই করা উচিত।’ আমি বললাম— ‘তাহলে করে ফেলো।’ এরপর সে যা খেলল— দারুণ এক অ্যাশেজ ইনিংস।”

হেডের কাছে মুহূর্তটি ছিল ঠিকঠাক। তিনি জানান, “মার্নাস আর স্মাজের সঙ্গে তিন–চার–পাঁচে ব্যাটিং করার বিষয়টি সুন্দরভাবে কাজ করছে। তবে আমি অনুভব করছিলাম যে এই মুহূর্তটাই সঠিক। তাই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম।”

এরপর শুরু হয় ঝড়। প্রথম শটগুলি আসে নিখুঁত টাইমিংয়ে। লয়ের সঙ্গে সঙ্গে ওয়েদারাল্ডও নিজের নার্ভ ঠিক করে নেন। দুজনের উদ্বোধনী জুটি গড়ে ওঠে ৭৫ রান। ইংল্যান্ডের বোলাররা যখন ছন্দ হারাতে শুরু করে, হেড তখন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। মাত্র ৬৯ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন, যা কঠিন লক্ষ্যকে এক সেশনের মধ্যেই সহজে পরিণত করে।

হেড বলেন, “ইনিংসের শুরুটা ভালো হওয়ায় আত্মবিশ্বাস পেয়েছিলাম। ৪০–৫০ রানের জুটির পর মনে হচ্ছিল ম্যাচ তখনই আমাদের হাতে চলে এসেছে। আমার প্রসেসটাও ঠিকঠাক কাজ করেছে।”

পার্থ টেস্ট দ্রুত শেষ হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া এখন কিছুদিন বিশ্রামে যাবে। এরপর ব্রিসবেনে ডে–নাইট টেস্টে মুখোমুখি হবে দুই দল। খাওয়াজার চোট এবং হেডের সফলতার পর ওপেনিংয়ে স্থায়ী পরিবর্তনের আলোচনা এখনই জোরালো হতে পারে। তবে স্টিভ স্মিথ এখনই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজি নন। তিনি বলেন, “এটা আগে হজম করা যাক। শেষ কয়েক ঘণ্টা যা ঘটেছে তা ছিল অবিশ্বাস্য। এখনই কিছু বলার সময় হয়নি।”

অ্যাশেজের বড় মঞ্চে হেডের এই ইনিংসকে অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক সময়ের সেরা চেজগুলোর একটি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

0%
0%
0%
0%