বিশ্বকাপের প্রাক্কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা আতঙ্ক নিউ ইয়র্ক ও কানসাস সিটিতে হামলায় আহত ১৫

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর মাত্র তিন দিন বাকি থাকতেই যুক্তরাষ্ট্রের দুই শহর নিউ ইয়র্ক ও কানসাস সিটিতে ঘটা পৃথক দুটি সহিংসতার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিউ ইয়র্কের পেন স্টেশনে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ছয়জন এবং কানসাস সিটির একটি শুটিংয়ের ঘটনায় নয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে ঘটল যখন শহরগুলোতে বিশ্বমানের ক্রীড়া মহোৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, পেন স্টেশনে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ছয়জন ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হলেও সবারই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেছে। সিটি কম্পট্রোলার মার্ক লেভিনের তথ্যমতে, আক্রমণকারী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত একজন গৃহহীন ব্যক্তি। ঘটনাটি এমন একটি ব্যস্ত কেন্দ্রে ঘটেছে, যার ঠিক ওপরেই ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন অবস্থিত। এই ভেন্যুতে এনবিএ ফাইনালের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং নিকটস্থ মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করা হবে।

একই সময়ে মিসৌরির কানসাস সিটিতে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ইংল্যান্ড দলের নির্ধারিত অনুশীলনের মাঠ সোয়োপ সকার ভিলেজ থেকে মাত্র ৬.৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কানসাস সিটি পুলিশের ভাষ্যমতে, এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে আটক করা সম্ভব হয়নি। যদিও ইংল্যান্ড দল বর্তমানে সেখানে পৌঁছায়নি, তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা আয়োজক দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বকাপের মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টিই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি ভিন্ন শহরে। এত বিশাল আয়োজন ঘিরে তৈরি করা হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তাবলয়। ফেডারেল এজেন্সি, স্থানীয় পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। ড্রোন প্রতিরোধকারী প্রযুক্তি থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরা এবং রোবট ডগের মাধ্যমে মাঠ ও ফ্যান জোনগুলোতে নজরদারি চালানো হচ্ছে। এফবিআই প্রতিটি আয়োজক শহরে যৌথ অপারেশন সেন্টার চালু করার পরিকল্পনা করেছে।

ট্রাম্পের বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানির মতে, এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বাসযোগ্য বড় ধরনের হুমকি পাওয়া যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় ৭০ লক্ষ দর্শনার্থী এবারের টুর্নামেন্ট দেখতে দেশটিতে ভ্রমণে আসতে পারে। ২০২৫ সালে দেশটিতে ৪০০টিরও বেশি গণ-গোলাগুলির ঘটনা ঘটার প্রেক্ষাপটে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। স্থানীয় গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই ঘটনাকে ভয়াবহ সহিংসতা আখ্যা দিয়ে দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

০%
০%
০%
০%