ডোপ টেস্ট এড়ানোর দায়ে ৪ বছরের নিষেধাজ্ঞা উইম্বলডন জয়ী মার্সেতা ভনদ্রুসোভা’র ওপর

ডোপিং বিরোধী পরীক্ষায় নমুনা প্রদানে অস্বীকৃতি জানানোর দায়ে চার বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেন উইম্বলডনের সাবেক চ্যাম্পিয়ন মার্কেটা ভন্দ্রোউসোভা। গত ডিসেম্বর মাসে নিজ বাড়িতে ডোপিং কন্ট্রোল অফিসারের আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় পেশাদার টেনিস থেকে দীর্ঘ এই নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লেন ২৬ বছর বয়সী এই চেক তারকা। আন্তর্জাতিক টেনিস ইন্টিগ্রিটি এজেন্সির পক্ষ থেকে সোমবার এই কঠোর শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা কার্যকর থাকবে ২০৩০ সালের ২১ জুন পর্যন্ত।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ডিসেম্বরে, যখন ডোপিং পরীক্ষার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভন্দ্রোউসোভা’র বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলেন। সে সময় নমুনা প্রদানে অস্বীকৃতি জানান এই টেনিস খেলোয়াড়। নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি দাবি করেন যে, গভীর রাতে যথাযথ পরিচয়পত্র ছাড়াই এক অপরিচিত ব্যক্তি আসায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি এই পরিস্থিতি তার বিচারবুদ্ধিকে প্রভাবিত করেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল তার এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। ট্রাইব্যুনালের রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরীক্ষাটি প্রত্যাখ্যান করার পেছনে কোনো জোরালো ও গ্রহণযোগ্য কারণ ছিল না। আন্তর্জাতিক টেনিস ইন্টিগ্রিটি এজেন্সির প্রধান নির্বাহী কারেন মুরহাউস জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের ওপর চাপের বিষয়টি তারা উপলব্ধি করেন, কিন্তু খেলার স্বচ্ছতা ও সততা বজায় রাখতে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও যোগ করেন যে, ডোপিং নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত কর্মকর্তারা অত্যন্ত পেশাদার এবং তাদের পরিচয় যাচাইয়ের সব সুযোগ খেলোয়াড়দের দেওয়া থাকে।

২০২৩ সালে উইম্বলডন জিতে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছিলেন ভন্দ্রোউসোভা। অল ইংল্যান্ড ক্লাবের সেই টুর্নামেন্টে প্রথম অবাছাই খেলোয়াড় হিসেবে শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছিলেন তিনি। এছাড়া ২০১৯ সালে ফরাসি ওপেনের ফাইনালে ওঠা এবং ২০২১ সালের টোকিও অলিম্পিকে রৌপ্য পদক জয় ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক। একসময় র‍্যাঙ্কিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে উঠে আসা এই খেলোয়াড় বর্তমানে র‍্যাঙ্কিংয়ের ১২২ নম্বর অবস্থানে রয়েছেন।

নিষিদ্ধ থাকাকালীন সময়ে ভন্দ্রোউসোভা আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশন, ডব্লিউটিএ, এটিপি বা কোনো গ্র্যান্ড স্লামের আয়োজনে কোনোভাবেই অংশগ্রহণ, কোচিং বা উপস্থিত থাকতে পারবেন না। এই রায়ের বিরুদ্ধে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টে আপিল করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। তার আইনজীবী ইয়ান এক্সনার জানিয়েছেন, রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পর্যালোচনা এবং মক্কেলের সঙ্গে পরামর্শ করার পরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত এই সময়টাতে সব ধরণের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছেন এই চেক খেলোয়াড়।

০%
০%
০%
০%