২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও স্পেন মহারণ নিয়ে বিভক্ত ফুটবল বিশ্ব

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মহাকাব্যিক ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং ল্যাটিন আমেরিকার পরাশক্তি আর্জেন্টিনা। ফুটবলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন একটি লড়াইয়ের অপেক্ষায় উত্তাল পুরো বিশ্ব। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শিরোপা জেতার ১৬ বছর পর স্প্যানিশরা এখন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব জয়ের স্বপ্নে বিভোর। অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা উঁচিয়ে ধরার হাতছানি আর্জেন্টিনার সামনে। এই অনন্য অর্জনের পথে তারা হতে চায় ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দেশ।

বিজ্ঞাপন

পরিসংখ্যান ভিত্তিক সংস্থা অপটার তথ্য অনুযায়ী, ৫৯.৫৬ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে স্পেনকে এই লড়াইয়ে ফেভারিট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নিউ জার্সিতে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার ক্ষেত্রে লা রোজাদেরই এগিয়ে রাখছেন বেশিরভাগ ফুটবল বোদ্ধা ও প্রাক্তন তারকারা। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়েন স্পেনকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে যোগ্য দল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ফ্রান্সের মতো ব্যক্তিগত দক্ষতায় ভরা দল না হলেও, বল পায়ে স্পেনের সাহস এবং দলীয় সংহতি তাদের অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সুইডিশ কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচও স্পেনের আধিপত্যের ওপর বাজি ধরছেন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ ইব্রাহিমোভিচ মনে করেন, আর্জেন্টিনার মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও তারা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখতে পারবে। স্পেনের রক্ষণভাগ ও দলীয় সমন্বয়ের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে চেলসির প্রাক্তন অধিনায়ক জন টেরিও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা আর্জেন্টিনার তুলনায় এগিয়ে থেকে মাঠে নামবে। ২০১০ সালে স্পেনের অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ী ইকার ক্যাসিয়াসও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্পেনের দ্বিতীয় তারকার স্বপ্ন পূরণের সংকল্প প্রকাশ করেছেন।

তবে অভিজ্ঞ অ্যালান শিয়েরারের কণ্ঠে ভিন্ন সুর। তিনি মনে করেন, আর্জেন্টিনার মানসিক দৃঢ়তা ও অদম্য জেদ স্পেনকে আটকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তার মতে, লিওনেল মেসির মতো একজন জেনিয়াস দলে থাকলে যেকোনো অসাধ্য সাধন সম্ভব। এই লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার কৌশল কী হতে পারে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মাইকা রিচার্ডস বলছেন, মেসিকে কেন্দ্র করে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং রক্ষণভাগকে আঁটসাঁট রাখাই হতে পারে আর্জেন্টিনার সেরা অস্ত্র।

বিজ্ঞাপন

গ্যারি লিনেকারের মতে, ম্যাচটি খুবই হাড্ডাহাড্ডি হতে যাচ্ছে। একদিকে স্পেনের ছন্দময় ফুটবল, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার ইস্পাত কঠিন মনোবল—সব মিলিয়ে জয়ী নির্ধারণ করা এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। ৫৬ বছর বয়সী এই ধারাভাষ্যকার লড়াইটিকে ৫০-৫০ হিসেবে দেখছেন। যদিও নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি রাজনৈতিক কৌশলে কোনো দলকে বেছে না নিয়ে কেবল একটি সুন্দর ফাইনালের অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়েছেন। এখন দেখার পালা, নিউ জার্সির মাটিতে শেষ হাসি হাসে কারা।

0%
0%
0%
0%