ডি-বক্সের বাইরে থেকে গোলের বন্যা বিশ্বকাপে দূরপাল্লার শটের দাপট বাড়ছে বহুগুণ

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত চলমান বিশ্বকাপে দূরপাল্লার শটের প্রবণতা যেন এক নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। ফিফার কারিগরি সমীক্ষা দলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডি-বক্সের বাইরে থেকে গোল করার হার গত কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। এবারের আসরে মোট গোলের ১৬ শতাংশই এসেছে পেনাল্টি এলাকার বাইরে থেকে, যেখানে ২০২২ সালের আসরে এই হার ছিল মাত্র ৮ শতাংশ। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ যখন জমাটবদ্ধ হয়ে খেলছে, তখন স্ট্রাইকারদের সামনে দূরপাল্লার শট নেওয়া ছাড়া বিকল্প পথ খুব একটা খোলা থাকছে না বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
ফিফার কারিগরি সমীক্ষা দলের সদস্য ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের মতে, বক্সের ভেতরে প্রতিপক্ষের আট থেকে নয়জন খেলোয়াড়ের ভিড় থাকায় গোলরক্ষকদের জন্য বলের গতিবিধি লক্ষ্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সাবেক মার্কিন জাতীয় দলের এই কোচের ভাষ্যমতে, রক্ষণভাগে খেলোয়াড়দের ঠাসাঠাসি অবস্থানের কারণে বক্সের বাইরে থেকে শট নেওয়ার রসদ তৈরি হচ্ছে, যা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য উপহার দিচ্ছে দুর্দান্ত সব গোল। ফিফার ফুটবল উন্নয়ন প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গারও দূরপাল্লার শটের মান নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তার মতে, খেলোয়াড়রা যেভাবে রকেটের গতিতে শট নিচ্ছেন, তা সত্যিই উপভোগ্য।
এই টুর্নামেন্টে রক্ষণাত্মক প্রতিপক্ষের দুর্গ ভাঙতে দূরপাল্লার শটের ওপর বেশ আস্থা রেখেছে আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এনজো ফার্নান্দেজের সেই অবিস্মরণীয় গোলটি ম্যাচে ফেরার বড় মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এছাড়া সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজের ২২ গজ দূর থেকে নেওয়া নান্দনিক শটটি আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
টুর্নামেন্টের উত্তাপ যে তুঙ্গে, তার প্রমাণ মিলেছে শনিবারের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস ডি-বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৬-৪ ব্যবধানে গড়ানো ম্যাচটি চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম রোমাঞ্চকর লড়াই হিসেবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে।