মাদক ও দুর্নীতি কাণ্ডে দশ বছরের কারাদণ্ড ওয়াইদাদ এসির সাবেক সভাপতি নাসেরির

মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় একটি যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেছে দেশটির আদালত, যা দেশটির ক্রীড়া এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান ও দুর্নীতির এক চাঞ্চল্যকর মামলায় ২৯ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই রায় দেওয়া হয়েছে, যেখানে শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড পেয়েছেন। প্রায় দুই বছর ধরে চলা এই বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তিতে ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত, যা দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ দুর্নীতিবিরোধী অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এই রায়ে সবচেয়ে আলোচিত নাম সাঈদ নাসিরি, যিনি কাসাব্লাঙ্কার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব উইদাদ এসি’র সাবেক সভাপতি এবং সংসদ সদস্য ছিলেন। আদালত তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। একই সাথে সরকারি পাম দলের সিনিয়র সদস্য এবং নির্মাণ খাতের ব্যবসায়ী আবদেনেবি বিউইকে ১২ বছর এবং বেলকাসেম মিরকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি আসামিদের অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় দুই থেকে নয় বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই বিশাল নেটওয়ার্কের নেপথ্যের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে ‘সাহারা মরুভূমির পাবলো এসকোবার’ খ্যাত মালিয়ান মাদক ব্যবসায়ী এল হাজ আহমেদ বেন ইব্রাহিমের নাম। বর্তমানে মরক্কোর কারাগারে ১০ বছরের সাজা ভোগ করা এই ব্যক্তি আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় জানান, তার ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সহযোগীরাই তাকে প্রতারিত করেছে। তার গ্রেপ্তারের পর তার বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট এবং বিপুল সম্পদ দখল করে নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

এই মামলায় মাদক চোরাচালান, স্বর্ণ পাচার, দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং মানি লন্ডারিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মরক্কোর উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে গাঁজার চালান এবং ল্যাটিন আমেরিকা থেকে কোকেন পাচারের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত এই চক্রটি। আদালতের নির্দেশে প্রধান অপরাধীদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং তাদের ওপর শত শত কোটি ডলারের অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই রায় মরক্কোর রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায়ে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ সংসদীয় জীবনকে নৈতিকতার চাদরে আবৃত করতে একটি বাধ্যতামূলক আচরণবিধি প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতের ভেতরে আসামিদের পরিবারের সদস্যদের কান্নাকাটি ও হাহাকার দেখা গেলেও, আইনজীবীদের ধর্মঘটের কারণে অনেক আসামির পক্ষে কোনো আইনি প্রতিনিধিত্ব ছিল না, যা এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।

0%
0%
0%
0%