বিশ্বকাপের নকআউটে মেক্সিকো নকআউট পর্ব নিশ্চিতের লড়াইয়ে আজ মাঠে নামছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল

বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্বের উত্তেজনা তুঙ্গে। শুক্রবার মাঠে নামছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। নকআউট পর্বের পথে এক ধাপ এগিয়ে থাকার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন মাউরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা। তবে মার্কিন শিবিরে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচকে নিয়ে। কাফ মাসলের ইনজুরির কারণে এই তারকার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। অপর ম্যাচে বস্টনের মাঠে মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ড ও মরক্কো। পরিসংখ্যান ও অপটা সুপার কম্পিউটারের বিশ্লেষণ বলছে, এই ম্যাচে মরক্কোর জয়ের সম্ভাবনা ৫৪ দশমিক ২ শতাংশ। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে এই দুই দলের একমাত্র দেখায় ৩-০ ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল মরক্কো।
এদিকে, ফিলাডেলফিয়ায় জয়ের খোঁজে মাঠে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তাদের প্রতিপক্ষ হাইতি। আগের তিন দেখায় ব্রাজিল ১৭ গোল করেছে এবং মাত্র একবার বল জালে জড়াতে দিয়েছে প্রতিপক্ষকে। হাইতির বিপক্ষে জয়ের জন্য সাম্বার দেশটিকে ৮৭ দশমিক ৩ শতাংশ এগিয়ে রাখছে সুপার কম্পিউটার। একই দিনে মাঠে গড়াবে তুরস্ক ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার লড়াই। দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা দুই দলের লড়াই নিয়ে তুর্কি সমর্থকদের আশা বেশি, ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ সম্ভাবনা তাদের পক্ষেই।
কানাডার জন্য এই বিশ্বকাপ যেন স্বপ্নের মতো। কাতারকে ৬-০ গোলে হারিয়ে নকআউটের দুয়ারে দাঁড়িয়ে উত্তর আমেরিকার এই দেশটি। তবে ঐতিহাসিক এই জয়ের আনন্দ কিছুটা ফিকে হয়ে গেছে মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের গুরুতর ইনজুরিতে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জে পা ভেঙে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে। কানাডার কোচ জেসি মার্শ জানিয়েছেন, কোনের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। তবুও দলের অদম্য মানসিকতা বজায় রেখে নকআউট পর্বের লক্ষ্য পূরণে বদ্ধপরিকর তারা।
ইতিমধ্যেই নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ইতিহাস গড়েছে মেক্সিকো। দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে তারা। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে লুইস রোমোর করা একমাত্র গোলটি মেক্সিকোকে শেষ ষোলোয় পৌঁছে দেয়। এছাড়া আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির পারিবারিক দিক থেকে দুঃসংবাদ এসেছে। তার পিতা হোর্হে মেসির শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিলেও বর্তমানে তিনি উন্নতির দিকে রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্বকাপের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও নানা আলোচনার জন্ম দিচ্ছে এবারের আসর। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার পারফরম্যান্সের সাথে তাদের দলীয় গানের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়েছে। অন্যদিকে, কলম্বিয়ার তারকা লুইস দিয়াজ তার নিজ শহর বারানকাসে কেবল একজন ফুটবলার নন, বরং তরুণদের অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে উঠেছেন। নিজের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সেখানে নতুন নতুন ক্রীড়া স্থাপনা তৈরি করে প্রান্তিক শিশুদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন এই তারকা। সব মিলিয়ে ৪৪টি দলের অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে এবারের বিশ্বকাপ জমে উঠেছে দারুণভাবে।