দীর্ঘ ৩৪ বছরের খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপে জয়োৎসব স্কটল্যান্ডের ম্যাকগিনের গোলে হাইতিকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা

দীর্ঘ ২৮ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে জয়ের স্বাদ পেল স্কটল্যান্ড। বস্টনের অদূরে জিলেট স্টেডিয়ামে হাইতির বিপক্ষে ১-০ গোলের এক শ্বাসরুদ্ধকর জয় তুলে নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ফেরার গল্পটা রাঙালেন জন ম্যাকগিন। ম্যাচের ২৮তম মিনিটে ম্যাকগিনের শট ডিফ্লেকশনের মাধ্যমে জালে জড়ালে গ্যালারিতে উপস্থিত ৬৪ হাজার দর্শক উল্লাসে ফেটে পড়েন। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে সুইডেনের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের পর এটাই ফুটবলের বৈশ্বিক মহাযজ্ঞে স্কটল্যান্ডের প্রথম জয়।
দীর্ঘ তিন দশকের অপেক্ষার পর বড় কোনো টুর্নামেন্টে জয় পাওয়া স্টিভ ক্লার্কের শিষ্যদের জন্য ইতিহাস গড়ার এক দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে। গ্রুপ ‘সি’ তে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই এই জয় তাদের শেষ বত্রিশে ওঠার দৌড়ে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দিল। স্কটিশ সমর্থকদের গর্জন আর দলের অদম্য মানসিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো। স্কটল্যান্ডের অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসন এবং স্কট ম্যাকটোমিনের মতো তারকারা মাঠে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা চালিয়েছেন। ১৭তম মিনিটে ম্যাকটোমিনের জোরালো শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে না আসলে স্কটল্যান্ড প্রথমার্ধেই ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারত।
হাইতির বিপক্ষে জয়টি স্কটল্যান্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে টুর্নামেন্টের পরবর্তী কঠিন পরীক্ষাগুলোর কথা মাথায় রেখে। তাদের পরবর্তী লড়াই মরক্কোর বিপক্ষে, যা অনুষ্ঠিত হবে একই ভেন্যুতে। এরপরই মায়ামিতে তাদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। উল্লেখ্য, গ্রুপের অন্য ম্যাচে মরক্কো ও ব্রাজিল ১-১ গোলে ড্র করেছে। এমন পরিস্থিতিতে হাইতির বিপক্ষে এই জয়টি স্কটল্যান্ডের নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্নকে আরও বেগবান করল।
ম্যাচের শেষ দিকে হাইতি মরিয়া হয়ে সমতাসূচক গোলের জন্য মরিয়া লড়াই চালিয়েছিল। ৮৫তম মিনিটে ফ্রানৎজি পিয়েরোর একটি দুর্দান্ত হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে স্কটল্যান্ড। হাইতির আক্রমণভাগে রুবেন প্রভিডেন্স এবং জঁ-রিশনার বেলগার্ডের মতো খেলোয়াড়রা চাপের মুখেও স্কটিশ রক্ষণভাগের পরীক্ষা নিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার জয়ই নিশ্চিত হয়।
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া হাইতির জন্য এই টুর্নামেন্ট টিকে থাকা চ্যালেঞ্জিং। তবে দল হিসেবে তাদের লড়াই করার মানসিকতা প্রশংসার দাবি রাখে। বিপরীতে, স্কটল্যান্ড এখন নিজেদের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করছে। ইতিহাস গড়ার নেশায় বিভোর ক্লার্কের দল কি পারবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবার নাম লেখাতে? সেই উত্তর সময়ই বলে দেবে।