সান আন্তোনিওকে হারিয়ে এনবিএ ফাইনালে দুই শূন্য ব্যবধানে এগিয়ে নিউ ইয়র্ক নিক্স

এনবিএ ফাইনালসের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে সান আন্তোনিও স্পারসকে ১০৫-১০৪ ব্যবধানে হারিয়ে নিউ ইয়র্ক নিকস এখন শিরোপার সুবাস পাচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্বাসরুদ্ধকর এই জয়ে নিকস সাত ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে জালেন ব্রুনসনের ঠান্ডা মাথার ফ্রি থ্রোকি আর ভিক্টর ওয়াম্বানিয়ামার ভুলে ভাগ্য নির্ধারণ হয় নিউ ইয়র্কের। এখন সিরিজটি নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে স্থানান্তরিত হওয়ায় স্পারসের সামনে দাঁড়িয়েছে ইতিহাসের কঠিন চ্যালেঞ্জ।
ম্যাচের শেষভাগে সান আন্তোনিও স্পারস ১৪ পয়েন্টের বড় ব্যবধান ঘুচিয়ে দারুণভাবে খেলায় ফিরে এসেছিল। শেষ এক মিনিটের কম সময়ে ওয়াম্বানিয়ামার অসাধারণ পারফরম্যান্সে স্পারস ১০৪-১০২ ব্যবধানে এগিয়েও গিয়েছিল। তবে নাটকের তখনও বাকি ছিল। শেষ ৯ দশমিক ৫ সেকেন্ডে ওয়াম্বানিয়ামার বাজে পাসে বল হাতছাড়া হলে বলের দখল নেন ব্রুনসন। এরপর ফাউলের শিকার হয়ে একটি ফ্রি থ্রোক থেকে জয়সূচক পয়েন্ট তুলে নেন তিনি। শেষ মুহূর্তে স্পারসের সুপারস্টার ওয়াম্বানিয়ামা সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন।
নিজেদের ভুলে ম্যাচ হাতছাড়ার পর হতাশা গোপন করেননি ওয়াম্বানিয়ামা। তিনি স্বীকার করেন যে শেষ মুহূর্তে ভুল পাস দিয়ে তিনি দলের জয়ের স্বপ্ন নষ্ট করেছেন। অন্যদিকে কার্ল-অ্যান্টনি টাউন্স নিকসের হয়ে ২১ পয়েন্ট এবং ১৩টি রিবাউন্ড সংগ্রহ করে জয়ের অন্যতম কারিগর হয়েছেন। টাউন্স ওয়াম্বানিয়ামার প্রশংসা করে জানান যে, তাকে আটকে রাখা ছিল অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ, তবে অভিজ্ঞতার জোরেই তারা সফল হয়েছেন।
ইতিহাস বলছে, এনবিএ ফাইনালসের প্রথম দুই ম্যাচ হেরে শিরোপা জয়ের নজির খুব একটা নেই। ১৯৯৩ সালে মাইকেল জর্ডানের শিকাগো বুলস এবং ১৯৯৫ সালে হিউস্টন রকেটসের পর নিউ ইয়র্ক নিকসই হলো এমন দল যারা প্রতিপক্ষের মাঠে টানা দুটি জয় তুলে নিতে সক্ষম হয়েছে। টানা ১৩তম জয় পাওয়া নিকস এখন ১৯৭৩ সালের পর প্রথম শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
ম্যাচে ব্রুনসন এবং মিকাল ব্রিজেস দুজনেই ২০ পয়েন্ট করে সংগ্রহ করেছেন, এছাড়া ওজি আনুনবি ১৭ এবং ল্যান্ড্রি শামিট ১৩ পয়েন্টের অবদান রাখেন। সান আন্তোনিও স্পারসের পক্ষে ওয়াম্বানিয়ামা সর্বোচ্চ ২৯ পয়েন্ট এবং ডিঅ্যারন ফক্স ২০ পয়েন্ট অর্জন করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। সোমবার ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে হতে যাওয়া পরবর্তী ম্যাচে দর্শকদের উন্মাদনা থাকবে তুঙ্গে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
