আয়ারল্যান্ড ও কাতার ম্যাচে প্রতিবাদের আঁচ, ইসরায়েল ফুটবল বিতর্ক আরও উত্তপ্ত হওয়ার পথে

ডাবলিনের আভিভা স্টেডিয়ামে কাতার ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার প্রীতি ম্যাচটি মাঠের ফুটবলের চেয়ে রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের নিক্ষিপ্ত বলের কারণে দুই দফা থমকে যায় এই লড়াই। মাঠে নামা আয়ারল্যান্ডের মিডফিল্ডার জেমি ম্যাকগ্রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আসন্ন নেশন্স লিগে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি ঘিরে এই উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হতে পারে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এই প্রীতি ম্যাচে ফিলিস্তিনের পতাকা সম্বলিত টেনিস বল ছুড়ে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে খেলা ব্যাহত করা হয়। যদিও আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা এফএআই জানিয়েছে, ইসরায়েলের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ দুটি খেলতে তারা বাধ্য, অন্যথায় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে তাদের। তবুও মাঠের বাইরের বিতর্ক খেলোয়াড়দের জন্য এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
আগামী ৪ অক্টোবর ডাবলিনে ইসরায়েলকে আতিথ্য দেওয়ার কথা রয়েছে আইরিশদের। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের হোম ম্যাচটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। ম্যাকগ্রা মনে করেন, বিক্ষোভকারীরা তাদের জায়গা থেকে যৌক্তিক দাবি জানাচ্ছেন এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার তাদের রয়েছে। তবে খেলোয়াড় হিসেবে তারা এমন রাজনৈতিক জটিলতার ঊর্ধ্বে থাকতে চান, যদিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে আয়ারল্যান্ডের ফুটবলার এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ইসরায়েলের ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন। গত নভেম্বর মাসে এফএআইয়ের ৯৩ শতাংশ সদস্য উয়েফার কাছে ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন। আয়ারল্যান্ডের প্রধান কোচ হেইমির হালগ্রিমসনও বিষয়টি নিয়ে বেশ সরব। তিনি ইসরায়েলের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচগুলোকে ফুটবলীয় লড়াইয়ের পাশাপাশি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
ম্যাকগ্রার মতে, আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা অনিশ্চিত। ফুটবলাররা সরাসরি এই বিতর্কে জড়াতে না চাইলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। খেলোয়াড়দের চাওয়া, উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা আলোচনার মাধ্যমে এর একটি যৌক্তিক সমাধান খুঁজে বের করবেন, যাতে শেষ পর্যন্ত খেলার মাঠটি শুধুমাত্র ফুটবলের কেন্দ্রই থাকে।
