১৯৯১ সালের পর সর্বকনিষ্ঠ ফরাসি ওপেন জয়ী বিস্ময় বালক মোয়েস কোয়ামে কে

রোলাঁ গারোর লাল মাটির কোর্টে জন্ম নিল এক নতুন মহাতারকা। ফরাসি ওপেনের মঞ্চে মাত্র ১৭ বছর ২ মাস বয়সে মারিন চিলিচের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছেন স্থানীয় কিশোর মোইস কুয়ামে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৩১৮ নম্বরে থাকা এই তরুণের হাত ধরে দীর্ঘ ১৭ বছরের খরা কাটিয়ে কোনো কিশোর গ্র্যান্ড স্লামের মূল পর্বে জয়ের দেখা পেল। সিমোন-মাথিউ কোর্টের দর্শকরা সাক্ষী থাকলেন এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের, যেখানে কুয়ামে ৭-৬(৪), ৬-২, ৬-১ সেটে উড়িয়ে দিলেন প্রাক্তন ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন ক্রোয়েশিয়ার মারিন চিলিচকে।
২০০৯ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর থেকে কোনো কিশোরের এমন দাপুটে জয় আগে দেখা যায়নি। বার্নার্ড টমিকের পর কুয়ামেই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি এত কম বয়সে কোনো গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম রাউন্ড জয়ের স্বাদ পেলেন। এছাড়া ১৯৯১ সালে দিনু পেসকারিওয়ের পর ফরাসি ওপেনে জয় পাওয়া সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ও এখন এই ফরাসি কিশোর। ১৯৯৮ সালে মারাত সাফিন যেমন আন্দ্রে আগাসিকে হারিয়ে চমক দিয়েছিলেন, কুয়ামেও ঠিক তেমন এক কীর্তি গড়ে নিজের নামের পাশে যুক্ত করলেন বড় সাফল্যের পালক।
প্যারিসের উপকণ্ঠ সারসেলেসে জন্মগ্রহণ করা কুয়ামের টেনিস যাত্রার শুরুটা হয়েছিল মাত্র ৬ বছর বয়স থেকে। বড় ভাই মাইকেলের অনুপ্রেরণায় টেনিসে আসা এই তরুণ এখন নিজেকে গড়ে তুলছেন বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের সাবেক ৭ নম্বর তারকা রিচার্ড গাসকে এবং লরেন্ট রেমন্ডের তত্ত্বাবধানে। ছয় ফুট তিন ইঞ্চি উচ্চতার এই খেলোয়াড়কে ভক্তরা আদর করে ডাকেন ‘কেটিটি’ নামে, যার অর্থ হলো—সব সারফেসেই সমান দক্ষ এই তরুণ। তিনটি আইটিএফ শিরোপা জেতা কুয়ামে মায়ামি ওপেন ও মন্টে-কার্লো মাস্টার্সে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই এই অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন বলে জানান।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত কুয়ামে জানান, এমন একটি বড় টুর্নামেন্টে নিজের সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি কোর্টে নেমেছিলেন। চিলিচের বিরুদ্ধে বয়সের ব্যবধান নিয়ে তিনি মোটেও ভাবিত ছিলেন না। তার মতে, কোর্টে নামলে বয়স বা বাইরের কোনো চিন্তা মাথায় থাকে না, একমাত্র লক্ষ্য থাকে প্রতিপক্ষের জন্য লড়াইটা কতটা কঠিন করা যায়। চিলিচের বিরুদ্ধে সেই কৌশলেই তিনি সফল হয়েছেন।
নিজের এই অর্জনের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় সমর্থকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কুয়ামে। দ্বিতীয় রাউন্ডে প্যারাগুয়ের আদোলফো ড্যানিয়েল ভালেহোর মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজের মানসিক প্রস্তুতির কথা বারবার উল্লেখ করেছেন তিনি। যদিও পুরুষ এককের লড়াইয়ের পাশাপাশি জিওভান্নি এমপেৎশি পেরিকার সাথে জুটি বেঁধে পুরুষ দ্বৈতে অংশ নিয়েছিলেন কুয়ামে, কিন্তু সেখানে রবার্ট ক্যাশ ও জেমস ট্রেসির কাছে ৬-৪, ১-৬, ৬-৪ সেটে হার মানতে হয়েছে তাকে। তবে এখন ফরাসি তারকা এলসা জ্যাকিমোর সাথে মিশ্র দ্বৈতে নতুন করে সাফল্যের আশায় কোর্টে নামবেন এই উদীয়মান টেনিস সেনসেশন।
