ফ্রেঞ্চ ওপেন বয়কটের হুঁশিয়ারি তারকা খেলোয়াড়দের, সবায়ঙ্কার কণ্ঠে অসন্তোষ

নারী টেনিস তারকাদের মধ্যে গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টে পুরস্কার অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর দাবিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিশ্ব টেনিসের শীর্ষ তারকা আরিনা সাবালেঙ্কা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ফ্রেঞ্চ ওপেনের (রোল্যান্ড গ্যারোস) আয়োজকরা যদি পুরস্কার অর্থের অঙ্ক না বাড়ায়, তবে খেলোয়াড়রা টুর্নামেন্ট বয়কটের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন। তার এই কঠোর অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন আরেক তারকা কোকো গফ।
মঙ্গলবার এমন হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর ফ্রেঞ্চ ওপেনের আয়োজক এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার অর্থের বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ নতুন মাত্রা পেয়েছে। যদিও এবারের রোল্যান্ড গ্যারোসে মোট পুরস্কারের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৬১.৭ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৭২.১ মিলিয়ন ডলার) হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৫.৩ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৬.২ মিলিয়ন ডলার) বেশি।
তবে, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকজন শীর্ষ তারকা এর একদিন আগে এক বিবৃতিতে জানান, তারা যে পরিমাণ অর্থ পুরস্কার হিসেবে পাচ্ছেন, তা টুর্নামেন্টের মোট রাজস্বের ১৫ শতাংশের কম। যেখানে তারা অন্তত ২২ শতাংশ আয়ের ভাগ চেয়েছিলেন, যা পুরুষ ও মহিলা টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের (এটিপি ও ডব্লিউটিএ) সমন্বিত ১০০০ ইভেন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইতালিয়ান ওপেনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাবালেঙ্কা বলেছেন, “আমি মনে করি, একসময় আমাদের এটি বয়কট করতেই হবে। অধিকার আদায়ে এটাই একমাত্র পথ বলে আমি বিশ্বাস করি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা দেখতে চাই, খেলোয়াড়রা কতটা দূর যেতে পারে। কিছু বিষয় খেলোয়াড়দের জন্য খুবই অন্যায্য। আমার মনে হয়, বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট সীমায় পৌঁছাবে।”
তবে, বিশ্বসেরা এই খেলোয়াড় আলোচনার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আমি সত্যিই আশা করি, আমাদের চলমান আলোচনা থেকে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত আসবে, যা সকলের জন্য সন্তোষজনক হবে।”
এই পুরস্কার অর্থ বৃদ্ধি সত্ত্বেও, রোল্যান্ড গ্যারোস অন্যান্য গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টের তুলনায় পিছিয়ে আছে। গত বছর ইউএস ওপেন প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলার, উইম্বলডন প্রায় ৭২.৫১ মিলিয়ন ডলার এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেন রেকর্ড প্রায় ৮০.০৬ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার অর্থ হিসেবে প্রদান করেছে।
বিশ্বের চার নম্বর খেলোয়াড় কোকো গফ বলেছেন, খেলোয়াড়রা যদি একযোগে সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তারা যেকোনো গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্ট বয়কট করতে পারে। তিনি বলেন, “এটা শুধু আমার কথা নয়, এটা আমাদের খেলার ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান খেলোয়াড়দের জন্য, যারা হয়তো শীর্ষ খেলোয়াড়দের মতো স্পনসরশিপ বা অন্যান্য সুবিধা পাচ্ছেন না।” গফ উল্লেখ করেন, “আমরা কোর্টের বাইরেও অর্থ উপার্জন করি। কিন্তু ৫০ থেকে ২০০ নম্বর র্যাঙ্কের খেলোয়াড়দের দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা প্রতি মাসের বেতনের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্ট যে পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে, সেখানে এই খেলোয়াড়দের অবস্থা খুবই দুঃখজনক।”
গফ খেলোয়াড়দের একটি ইউনিয়ন গঠনের ওপরও জোর দিয়েছেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে নারী বাস্কেটবল লিগের (ডব্লিউএনবিএ) খেলোয়াড়দের ইউনিয়ন গঠনের কথা উল্লেখ করেন, যারা প্রায় ১৭ মাস আলোচনার পর সম্প্রতি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তিনি বলেন, “অন্যান্য খেলাধুলার দিকে তাকালে দেখা যায়, বড় ধরনের অগ্রগতি এবং পরিবর্তনের জন্য একটি ইউনিয়নের প্রয়োজন হয়।”
সাবালেঙ্কা আরও বলেন, খেলোয়াড়রা আরও বেশি পুরস্কার অর্থ পাওয়ার যোগ্য। “যখন আপনি এই অঙ্কগুলো দেখেন এবং খেলোয়াড়রা কী পাচ্ছে তা তুলনা করেন, তখন মনে হয় সবটাই হচ্ছে আমাদের জন্য। আমাদের ছাড়া এই টুর্নামেন্ট বা এই বিনোদন সম্ভব নয়,” বলে তিনি মন্তব্য করেন। “আমার মনে হয়, আমরা অবশ্যই আয়ের একটি বড় শতাংশ প্রাপ্য। আমি এর বেশি আর কী বলব?”