AdvertisementAdvertisement

সিএসকের দাপট: গায়কোয়াড-কার্তিকের নৈপুণ্যে মুম্বাইকে দ্বিতীয়বার হারালো চেন্নাই

চিপকের মাঠে দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনীতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ৮ উইকেটে পর্যুদস্ত করে চলমান টুর্নামেন্টে তাদের উপর ডাবল লিগ জয় নিশ্চিত করেছে চেন্নাই সুপার কিংস। ঋতুরাজ গায়কোয়াড় এবং কার্তিক শর্মার অনবদ্য অর্ধশতকে ভর করে শনিবারের এই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে চেন্নাই ছিনিয়ে নিল মূল্যবান ২ পয়েন্ট।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স শুরুটা ভালো করলেও শেষদিকে রানের গতি কমে যাওয়ায় ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রানের মাঝারি স্কোর গড়ে। দলের হয়ে নমন ধীর ৫৭ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেললেও বাকিরা বড় স্কোর গড়তে পারেননি। চেন্নাইয়ের বোলারদের মধ্যে আনশুল কাম্বোজ ৩টি এবং নূর আহমদ ২টি উইকেট শিকার করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চেন্নাই শুরুতে ধাক্কা খেলেও, ঋতুরাজ গায়কোয়াড় এবং কার্তিক শর্মার তৃতীয় উইকেট জুটিতে ম্যাচ নিজেদের দিকে নিয়ে আসে। এই জুটি ১৪০ রানের এক অবিশ্বাস্য অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপ গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। মুম্বাইয়ের হয়ে জাসপ্রিত বুমরাহ ১টি উইকেট পান।

মুম্বাইয়ের ইনিংসের শুরুতে আনশুল কাম্বোজ দ্বিতীয় বলেই উইল জ্যাকসকে মাত্র ১ রানে সাজঘরে ফেরান। তবে নমন ধীর এবং রায়ান রিকল্টন দ্রুত পরিস্থিতি সামলে নেন। ৩২ বলে ৫৮ রানের ঝড়ো পার্টনারশিপ গড়েন তারা, যা পাওয়ারপ্লেতে মুম্বাইকে শক্ত অবস্থানে রাখে। রিকল্টন ২৩ বলে ৩৭ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলেন, যেখানে তিনি মুকেশ চৌধুরী এবং প্রশান্ত ভীরকে লক্ষ্য করে ৫টি ছক্কা হাঁকান। নূর আহমদ সেই গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু এনে দেন, যখন রিকল্টনকে প্যাভিলিয়নে পাঠান।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে সূর্যকুমার যাদবের দ্রুত ২১ রানের ক্যামিওতে মুম্বাই ৯০/২ স্কোর নিয়ে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। তবে এর পরপরই ছন্দ পতন হয়। নমন ধীর একপ্রান্তে টিকে থাকলেও সঙ্গীর অভাবে রানের গতি ধরে রাখতে পারেননি। তিলক ভার্মা এবং অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন। নমন ধীর ৩৪ বলে অর্ধশতক পূরণ করার পরপরই ওভারটনের বলে আউট হন। শেষ দশ ওভারে মুম্বাই মাত্র ৬৯ রান যোগ করে ৫ উইকেট হারায়, যা তাদের সংগ্রহকে ১৫৯ রানে আটকে রাখে।

চেন্নাইয়ের শুরুটাও মুম্বাইয়ের মতোই ছিল। জাসপ্রিত বুমরাহ প্রথম ওভারেই সঞ্জু স্যামসনকে তুলে নেন। তবে ঋতুরাজ গায়কোয়াড় ট্রেন্ট বোল্টকে লক্ষ্য করে তৃতীয় ওভারেই একটি দৃষ্টিনন্দন ড্রাইভ দিয়ে শুরু করেন এবং একটি চার ও একটি ছক্কা মেরে ইনিংসের গতি বাড়ান। উরভিল প্যাটেলও ক্রিজে এসে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন, ১৮ রানের একটি ওভারে দুটি বিশাল ছক্কা হাঁকান। যদিও এ এম গাঝানফারের ক্যারম বলে ২৪ রানের ব্যক্তিগত ইনিংসে সমাপ্তি ঘটে। পাওয়ারপ্লে শেষে চেন্নাইয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৬২/২।

৪৯ রানের এই পার্টনারশিপ ভাঙার পর গায়কোয়াড় ইনিংসের হাল ধরেন এবং কার্তিক শর্মা মাঝেমধ্যে বাউন্ডারি ও ছক্কা হাঁকিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন। দুজনের জুটি রান-এ-বল গতিতে এগোতে থাকে এবং প্রয়োজনীয় রানরেট বজায় রাখে। গায়কোয়াড় ১৪তম ওভারের শুরুতে ৩৪ বলে অর্ধশতক পূরণ করেন এবং পরপর দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শেষের দিকে রানের গতি বাড়ান। শেষ ৪ ওভারে যখন ২২ রানের প্রয়োজন ছিল, তখন কার্তিক শর্মা ফিরে আসা গাঝানফারের ওভারে একটি চার, একটি ছক্কা এবং আরেকটি চার মেরে ম্যাচ প্রায় নিজেদের করে নেন। তিনি দ্রুতই তার প্রথম অর্ধশতক পূরণ করেন, যা চেন্নাইকে পয়েন্ট টেবিলে দিল্লি ক্যাপিটালসকে পেছনে ফেলে ষষ্ঠ স্থানে তুলে আনে।

পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আগামী সোমবার নিজেদের মাঠে লখনউ সুপার জায়ান্টসের মুখোমুখি হবে। চেন্নাই সুপার কিংস একদিন বিশ্রাম নিয়ে মঙ্গলবার অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে।

0%
0%
0%
0%