Symphony Max 60
General & Launch
Network
Body
Display
Platform
Memory
Camera
Sound
Connectivity
Battery
Features
- ৬০০০ এমএএইচ (6000 mAh) এর বিশাল ব্যাটারি, যা সাধারণ ব্যবহারে দুই দিন পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে পারে।
- অ্যান্ড্রয়েড ১৫ (Android 15) এর লেটেস্ট অপারেটিং সিস্টেম, যা এই বাজেটে বিরল।
- ৬.৭৫ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে এবং ৯০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট, যা ভিডিও দেখার জন্য ভালো।
- টাইপ-সি (Type-C) চার্জিং পোর্ট, যা এখনকার সময়ে বেশ দরকারি।
- সাইড মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর যা বেশ ফাস্ট কাজ করে।
- ৮,৫০০ টাকার মধ্যে ৪ জিবি র্যাম এবং ৬৪ জিবি স্টোরেজ প্যাকেজ।
- ইউনিসক এসসি৯৮৬৩এ১ (Unisoc SC9863A1) প্রসেসরটি বেশ পুরনো (২৮ ন্যানোমিটার), তাই ভারী কাজে ফোনটি স্লো হতে পারে।
- ১০ ওয়াটের চার্জিং স্পিড বেশ ধীরগতিসম্পন্ন; ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারি ফুল চার্জ হতে প্রায় ৩.৫ ঘণ্টা সময় নেয়।
- ফোনটির ওজন ২১০ গ্রাম, যা দীর্ঘক্ষণ হাতে ধরে রাখা কিছুটা কষ্টকর হতে পারে।
- ৫ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা বর্তমান সময়ের তুলনায় বেশ দুর্বল।
- ডিসপ্লের রেজোলিউশন মাত্র ৭২০পি (HD+), যা এত বড় স্ক্রিনে কিছুটা ঘোলাটে মনে হতে পারে।
বিস্তারিত
Symphony Max 60 market price in Bangladesh is BDT 8,499 (Official). দেশীয় ব্র্যান্ড সিম্ফনি বরাবরই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে স্মার্টফোন তৈরি করে আসছে। বিশেষ করে যারা ১০ হাজার টাকার নিচে একটি ভালো স্মার্টফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য সিম্ফনি একটি আস্থার নাম। এই ধারাবাহিকতায় তারা বাজারে এনেছে ‘Symphony Max 60’।
নামের সাথেই ‘Max’ শব্দটি জুড়ে দিয়ে কোম্পানি বুঝিয়ে দিয়েছে যে এই ফোনের মূল ফোকাস হলো এর ম্যাক্সিমাম ব্যাটারি লাইফ এবং ডিসপ্লে। আজকের এই রিভিউতে আমরা দেখব ৮,৫০০ টাকার এই বাজেটে ফোনটি আসলে কতটা ভ্যালু প্রদান করছে এবং কাদের জন্য এটি কেনা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।
ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি Symphony Max 60 হাতে নিলেই বোঝা যায় এটি একটি বড়সড় ফোন। এর ৬.৭৫ ইঞ্চির বিশাল ডিসপ্লে এবং ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারির কারণে ফোনটি বেশ ভারী (২১০ গ্রাম) এবং পুরু। প্লাস্টিক বিল্ড হলেও এর পেছনের ফিনিশিং বেশ প্রিমিয়াম।
বিশেষ করে ‘ডিভাইন গোল্ড’ এবং ‘টাইটানিয়াম গ্রে’ কালার ভেরিয়েন্টগুলো আলোতে বেশ চকচকে দেখায়। ক্যামেরার মডিউলটি বর্তমান সময়ের ট্রেন্ডি ডিজাইনের সাথে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে। ডানপাশে পাওয়ার বাটনের সাথেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর বসানো হয়েছে, যা এই বাজেটের ফোনের জন্য একটি প্লাস পয়েন্ট। তবে যারা হালকা-পাতলা ফোন পছন্দ করেন, তাদের কাছে এটি কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে।
ডিসপ্লে এবং ভিজ্যুয়াল এক্সপেরিয়েন্স ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৭৫ ইঞ্চির একটি বিশাল আইপিএস এলসিডি প্যানেল। এটি একটি এইচডি প্লাস (৭২০ x ১৬০০ পিক্সেল) ডিসপ্লে। যদিও এই বড় স্ক্রিনে ১০৮০পি রেজোলিউশন থাকলে ভালো হতো, কিন্তু দাম বিবেচনায় ৭২০পি মেনে নেওয়া যায়।
তবে ভালো দিক হলো এতে ৯০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট দেওয়া হয়েছে। ফলে মেনু স্ক্রলিং এবং সাধারণ ব্যবহারে ডিসপ্লেটি বেশ স্মুথ মনে হয়। কালার রিপ্রোডাকশন মোটামুটি ভালো, ইউটিউব বা ফেসবুকে ভিডিও দেখার জন্য এটি বেশ উপভোগ্য। তবে ডিসপ্লের ব্রাইটনেস খুব বেশি নয়, তাই কড়া রোদে স্ক্রিন দেখতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। ডিসপ্লের ওপরের দিকে ওয়াটার ড্রপ নচ রয়েছে যা এখনকার দিনে কিছুটা পুরনো মনে হতে পারে।
পারফরম্যান্স এবং হার্ডওয়্যার পারফরম্যান্সের দিক থেকে Symphony Max 60 একটি মিশ্র অনুভূতির জন্ম দেয়। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ইউনিসক এসসি৯৮৬৩এ১ (Unisoc SC9863A1) চিপসেট। এটি একটি ২৮ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারের বেশ পুরনো প্রসেসর। দৈনন্দিন সাধারণ কাজ যেমন—কল করা, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটক চালানোর জন্য এটি যথেষ্ট। কিন্তু আপনি যদি গেমার হন বা ভারী অ্যাপ ব্যবহার করতে চান, তবে এই ফোনটি আপনার জন্য নয়।
ফোনটিতে ৪ জিবি ফিজিক্যাল র্যাম রয়েছে, যা সাধারণ মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য ভালো। তবে খুব বেশি অ্যাপ একসাথে ওপেন রাখলে ফোনটি কিছুটা স্লো হতে পারে। ৬৪ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ দেওয়া হয়েছে, যা মাইক্রো এসডি কার্ডের মাধ্যমে আরও ২৫৬ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
গেমিংয়ের কথা বললে, ফ্রি-ফায়ার (Free Fire) বা পাবজি (PUBG) লো গ্রাফিক্স সেটিংসে খেলা সম্ভব হলেও মাঝে মাঝে ফ্রেম ড্রপ বা ল্যাগ দেখা দিতে পারে। এটি মূলত ক্যাজুয়াল ইউজারদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, হার্ডকোর ইউজারদের জন্য নয়।
ব্যাটারি এবং চার্জিং Symphony Max 60-এর সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর ব্যাটারি। এতে রয়েছে ৬০০০ এমএএইচ (6000 mAh) এর বিশাল ব্যাটারি। একজন সাধারণ ব্যবহারকারী অনায়াসেই এই ফোনটি দিয়ে দুই দিন পার করে দিতে পারবেন। যারা প্রচুর ভিডিও দেখেন বা দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা বলেন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ ডিভাইস। রাইড শেয়ারিং বা ডেলিভারি কাজের জন্য যারা জিপিএস এবং স্ক্রিন অন রাখেন, তাদের জন্যও এই ব্যাটারি লাইফ দারুণ সুবিধা দেবে।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠ হলো এর চার্জিং স্পিড। বক্সে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০ ওয়াটের চার্জার। এই বিশাল ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারি ০ থেকে ১০০% চার্জ করতে প্রায় ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মতো সময় নেয়।
এটি বর্তমান সময়ের ফাস্ট চার্জিংয়ের যুগে বেশ হতাশাজনক। তবে রাতে চার্জে দিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে এটি খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়। টাইপ-সি পোর্ট থাকায় এটি আধুনিক ক্যাবলগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ক্যামেরা সেকশন ৮,৫০০ টাকার ফোনে খুব ভালো ক্যামেরা আশা করাটা বোকামি। Symphony Max 60-এর পেছনে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরা এবং একটি ২ মেগাপিক্সেলের সেকেন্ডারি সেন্সর (সম্ভবত ডেপথ সেন্সর)। দিনের পর্যাপ্ত আলোতে মেইন ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবিগুলো চলনসই। কালার এবং ডিটেইলস মোটামুটি ভালো থাকে। তবে আলো কমে গেলে বা রাতের বেলা ছবিতে প্রচুর নয়েজ বা ঝিরঝিরে ভাব চলে আসে।
সামনে রয়েছে ৫ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। এটি দিয়ে সাধারণ ভিডিও কল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়ার মতো সাধারণ মানের সেলফি তোলা সম্ভব। তবে স্কিন টোন এবং ডায়নামিক রেঞ্জ খুব একটা ভালো নয়।
ক্যামেরার অ্যাপে পোর্ট্রেট মোড, নাইট মোড এবং কিছু বেসিক ফিল্টার দেওয়া হয়েছে যা নতুন ইউজারদের কিছুটা আনন্দ দেবে। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ১০৮০পি ৩০ এফপিএস পর্যন্ত রেকর্ড করা যায়, তবে কোনো স্ট্যাবিলাইজেশন না থাকায় ভিডিও বেশ কাঁপাকাঁপি করে।
সফটওয়্যার এবং ইউজার ইন্টারফেস আশ্চর্যজনকভাবে, এই বাজেট ফোনে সিম্ফনি অ্যান্ড্রয়েড ১৫ (Android 15) ভার্সন দিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। লেটেস্ট ওএস থাকায় ব্যবহারকারীরা নতুন প্রাইভেসি ফিচার এবং অপ্টিমাইজেশনের সুবিধা পাবেন। তবে প্রসেসর দুর্বল হওয়ায় ফুল অ্যান্ড্রয়েড এক্সপেরিয়েন্স কিছুটা ভারী মনে হতে পারে।
ইন্টারফেসটি বেশ ক্লিন, খুব বেশি অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বা ব্লোটওয়্যার নেই। ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং, ডার্ক মোড এবং স্মার্ট কন্ট্রোলের মতো ফিচারগুলো এতে উপস্থিত রয়েছে।
নেটওয়ার্ক এবং কানেক্টিভিটি এটি একটি ৪জি ফোন এবং উভয় সিমেই ৪জি সাপোর্ট করে। কল কোয়ালিটি এবং নেটওয়ার্ক রিসেপশন বেশ ভালো। লাউডস্পিকারের সাউন্ড যথেষ্ট জোরালো, যা গান শোনা বা ভিডিও দেখার জন্য উপযুক্ত। এছাড়া ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক থাকায় আপনি আপনার পছন্দের যেকোনো ইয়ারফোন ব্যবহার করতে পারবেন। এফএম রেডিও থাকার কারণে বিনোদনের বাড়তি একটি মাধ্যমও থাকছে।
Symphony Max 60 মূলত তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে যাদের বাজেট একদম সীমিত কিন্তু বড় ব্যাটারি এবং বড় স্ক্রিন দরকার। যদি আপনার প্রধান অগ্রাধিকার হয় দীর্ঘস্থায়ী চার্জ এবং মুভি দেখা, এবং আপনি যদি গেমার না হন, তবে এই ফোনটি আপনার জন্য একটি ভ্যালু ফর মানি অপশন।
কাদের জন্য এই ফোন? ১. যারা সেকেন্ডারি বা দ্বিতীয় ফোন হিসেবে একটি শক্তিশালী ব্যাটারির ফোন খুঁজছেন। ২. বয়স্ক বাবা-মা যাদের বড় স্ক্রিন এবং সহজ ইন্টারফেস প্রয়োজন। ৩. ছাত্র-ছাত্রী যারা অনলাইন ক্লাস বা সাধারণ ব্রাউজিংয়ের জন্য কম দামে ফোন খুঁজছেন। ৪. রাইড শেয়ারিং বা ফিল্ড ওয়ার্কে যারা কাজ করেন এবং দীর্ঘক্ষণ চার্জ থাকাটা জরুরি মনে করেন।
কাদের জন্য নয়? ১. যারা ফোনে গেম খেলতে পছন্দ করেন। ২. যারা ভালো মানের ছবি বা ভিডিও তুলতে চান। ৩. যারা স্লিম এবং হালকা ফোন পছন্দ করেন।
সব মিলিয়ে, ৮,৪৯৯ টাকায় Symphony Max 60 তার টার্গেট অডিয়েন্সের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। দুর্বল প্রসেসর এবং ধীরগতির চার্জিং এর বড় দুর্বলতা হলেও, বিশাল ব্যাটারি এবং লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন একে বাজারের অন্যান্য বাজেট ফোন থেকে কিছুটা আলাদা করেছে।