Samsung Galaxy A36
General & Launch
Network
Body
Display
Platform
Memory
Camera
Sound
Connectivity
Battery
Features
- দীর্ঘ সফটওয়্যার আপডেট
- আইপি৬৭ প্রোটেকশন
- চার্জার নেই
- এসডি কার্ড স্লট নেই
বিস্তারিত
Samsung Galaxy A36 market price in Bangladesh is BDT 46,499. স্যামসাং গ্যালাক্সি সিরিজের এই নতুন স্মার্টফোনটি বাংলাদেশের বাজারে মধ্যম বাজেটের গ্রাহকদের জন্য এক নতুন চমক নিয়ে এসেছে। চমৎকার ডিজাইন, শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন ৬ জেন ৩ চিপসেট এবং দীর্ঘস্থায়ী সফটওয়্যার আপডেটের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এটি স্মার্টফোন প্রেমীদের নজর কেড়েছে। যারা দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি গেমিং এবং ফটোগ্রাফির জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ স্মার্টফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য এই ফোনটি একটি আদর্শ পছন্দ হতে পারে।
📦 Samsung Galaxy A36 Memory (RAM & Storage)
স্যামসাং গ্যালাক্সি A36 ডিভাইসে মেমরির ক্ষেত্রে একাধিক বিকল্প রাখা হয়েছে। এটি ৬ জিবি, ৮ জিবি এবং ১২ জিবি র্যাম ভার্সনে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। স্টোরেজের দিক থেকে ১২৮ জিবি এবং ২৫৬ জিবি ইউএফএস ২.২ প্রযুক্তির ইন্টারনাল স্টোরেজ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই মডেলে কোনো মাইক্রোএসডি কার্ড স্লট নেই, ফলে স্টোরেজ বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তাই কেনার সময় আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী স্টোরেজ নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
🌍 Samsung Galaxy A36 এর বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশের বাজারমূল্য
বাংলাদেশ: ৪৬,৪৯৯ টাকা (অফিসিয়াল)। ভারত: ৩৩,৫০০ রুপি। পাকিস্তান: ১০৮,০০০ রুপি। নেপাল: ৬৮,০০০ রুপি। সংযুক্ত আরব আমিরাত: ১,২৭০ দিরহাম। সৌদি আরব: ১,২৯৫ রিয়াল। মালয়েশিয়া: ১,৫৫০ রিঙ্গিত। সিঙ্গাপুর: ৫৫০ ডলার। ইন্দোনেশিয়া: ৫,৩০০,০০০ রুপিয়া। থাইল্যান্ড: ১৩,৯০০ বাথ। ফিলিপাইন: ২১,৫০০ পেসো। ভিয়েতনাম: ১১,৫০০,০০০ ডং। জাপান: ৫৪,০০০ ইয়েন। দক্ষিণ কোরিয়া: ৪৬৫,০০০ ওন। কাতার: ১,৩০০ রিয়াল। মনে রাখবেন, এই দামগুলো মুদ্রার বিনিময় হার এবং স্থানীয় ট্যাক্সের ওপর ভিত্তি করে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।
🖥️ Samsung Galaxy A36 Display
এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৭ ইঞ্চির একটি দুর্দান্ত সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে। ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেটের কারণে স্ক্রলিং এবং গেম খেলার অভিজ্ঞতা হবে অত্যন্ত মসৃণ। এর পিক ব্রাইটনেস ১৯০০ নিটস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা সরাসরি সূর্যালোকের নিচেও বেশ স্বচ্ছ দৃশ্য প্রদান করে। কর্নিং গরিলা গ্লাস ভিকটাস প্লাস দিয়ে সুরক্ষিত এই ডিসপ্লেটি স্ক্র্যাচ এবং হালকা পতনের বিরুদ্ধে বেশ শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করে।
📸 Samsung Galaxy A36 Cameras
ফটোগ্রাফির জন্য এতে ৫০ মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরা রয়েছে যা সনি আইএমএক্স ৮৮২ সেন্সর সমৃদ্ধ। এটি ওআইএস সাপোর্ট করে, ফলে ছবি এবং ভিডিও বেশ স্থিতিশীল হয়। সাথে আছে ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড এবং ৫ মেগাপিক্সেলের ম্যাক্রো লেন্স। সেলফির জন্য এতে ১২ মেগাপিক্সেলের একটি ফ্রন্ট ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে, যা ৪কে ভিডিও রেকর্ডিং করতে সক্ষম। সব মিলিয়ে দিনের আলোতে এর ক্যামেরা পারফরম্যান্স অসাধারণ।
⚙️ Samsung Galaxy A36 Hardware & Software
হার্ডওয়্যারের প্রাণ হিসেবে রয়েছে স্ন্যাপড্রাগন ৬ জেন ৩ চিপসেট, যা ৪ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারে তৈরি। সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে এটি অ্যান্ড্রয়েড ১৫ ভিত্তিক স্যামসাংয়ের ওয়ান ইউআই ৭.০ এ চলে। সবচেয়ে বড় চমক হলো স্যামসাংয়ের ৬ বছরের ওএস এবং সিকিউরিটি আপডেট সুবিধা, যা স্মার্টফোনটিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য আপ-টু-ডেট রাখবে।
🔋 Samsung Galaxy A36 Battery
৫০০০ এমএএইচ ক্ষমতার বিশাল ব্যাটারি সাধারণ ব্যবহারে অনায়াসে সারাদিন চলে যায়। ৪৫ ওয়াট সুপার ফাস্ট চার্জিং সুবিধা থাকায় ফোনটি চার্জ করতে খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় না। এটি প্রায় ৬৮ মিনিটে পুরোপুরি চার্জ হতে সক্ষম, যা ব্যস্ত জীবনে ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। তবে বক্সে কোনো চার্জার দেওয়া হয়নি, যা বর্তমান স্যামসাং স্মার্টফোনগুলোর একটি সাধারণ প্রবণতা।
🧩 Samsung Galaxy A36 Design
ডিজাইনের দিক থেকে স্যামসাং গ্যালাক্সি A36 বেশ প্রিমিয়াম লুক দেয়। এর সামনে ও পেছনে গরিলা গ্লাস ভিকটাস প্লাস ব্যবহার করা হয়েছে এবং ফ্রেমটি প্লাস্টিকের। আইপি৬৭ ওয়াটার ও ডাস্ট রেজিস্ট্যান্ট সার্টিফিকেশন থাকায় এটি পানির ঝাপটা থেকে সুরক্ষিত থাকে। অসাম ল্যাভেন্ডার, অসাম হোয়াইট, অসাম লাইম এবং অসাম ব্ল্যাক—এই চারটি চমৎকার রঙে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে।
🌐 Samsung Galaxy A36 Network & Connectivity
এই স্মার্টফোনটি ৫জি নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করে। ডুয়াল সিম সুবিধাসহ এতে রয়েছে ওয়াইফাই ৬ই, ব্লুটুথ ৫.৪ এবং এনএফসি। চার্জিং এবং ডেটা স্থানান্তরের জন্য টাইপ-সি ২.০ পোর্ট ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ৩.৫ এমএম হেডফোন জ্যাকটি এখানে অনুপস্থিত, তাই অডিওর জন্য আপনাকে ওয়্যারলেস হেডফোন বা টাইপ-সি কনভার্টার ব্যবহার করতে হবে।
🔐 Samsung Galaxy A36 Sensors & Security
নিরাপত্তার জন্য এতে রয়েছে ইন-ডিসপ্লে অপটিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর যা বেশ দ্রুত কাজ করে। এছাড়া অ্যাক্সিলোমিটার, জাইরোস্কোপ, কম্পাস এবং অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সর তো থাকছেই। স্যামসাং নক্স সিকিউরিটি থাকায় আপনার ব্যক্তিগত ডেটা থাকবে সম্পূর্ণ নিরাপদ। ভার্চুয়াল প্রক্সিমিটি সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে, যা কল চলাকালীন স্ক্রিন বন্ধ রাখতে সহায়তা করে।
🎧 Samsung Galaxy A36 Multimedia
অডিওর ক্ষেত্রে এতে লাউড স্টেরিও স্পিকার ব্যবহার করা হয়েছে, যা বেশ স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ সাউন্ড প্রদান করে। ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে অ্যামোলেড প্যানেল থাকায় মুভি বা ইউটিউব কনটেন্ট দেখার অভিজ্ঞতা বেশ ভালো। তবে এতে কোনো হেডফোন জ্যাক নেই, যা অডিও লাভারদের কিছুটা হতাশ করতে পারে।
🧠 Samsung Galaxy A36 Platform (OS, Chipset, CPU, GPU)
অ্যান্ড্রয়েড ১৫ এবং ওয়ান ইউআই ৭.০ এর সমন্বয়ে এর প্ল্যাটফর্মটি বেশ ইউজার ফ্রেন্ডলি। চিপসেট হিসেবে রয়েছে স্ন্যাপড্রাগন ৬ জেন ৩ যা অক্টাকোর সিপিইউ (৪x২.৪ গিগাহার্জ কর্টেক্স-এ৭৮) এবং অ্যাড্রেনো ৭১০ জিপিইউ দ্বারা পরিচালিত। এটি দৈনন্দিন সব ভারী কাজ অনায়াসেই সম্পন্ন করতে পারে।
🧪 Samsung Galaxy A36 Tests (Benchmark & Performance)
বেঞ্চমার্ক টেস্টে স্ন্যাপড্রাগন ৬ জেন ৩ চিপসেট বেশ সন্তোষজনক স্কোর করেছে। গিকবেঞ্চ এবং আনতুতু টেস্টে এর পারফরম্যান্স মধ্যম বাজেটের ফোনে প্রত্যাশিত মান বজায় রেখেছে। গেমিংয়ের ক্ষেত্রে পাবজি বা কল অফ ডিউটির মতো গেমগুলো মাঝারি সেটিংসে বেশ ভালোভাবেই খেলা যায়, ফ্রেম ড্রপের হার এখানে খুব কম।
✅ Samsung Galaxy A36 এর সুবিধাগুলো
১. চমৎকার ১২০ হার্জ সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে। ২. ৬ বছরের দীর্ঘ সফটওয়্যার ও সিকিউরিটি আপডেট। ৩. আইপি৬৭ ওয়াটার ও ডাস্ট রেজিস্ট্যান্স। ৪. শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন ৬ জেন ৩ চিপসেট। ৫. ওআইএস সমৃদ্ধ ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।
❌ Samsung Galaxy A36 এর অসুবিধাগুলো
১. বক্সে কোনো চার্জার দেওয়া নেই। ২. মাইক্রোএসডি কার্ড স্লট নেই। ৩. ৩.৫ এমএম হেডফোন জ্যাক অনুপস্থিত। ৪. ভার্চুয়াল প্রক্সিমিটি সেন্সর কিছুটা অবিশ্বস্ত হতে পারে। ৫. ম্যাক্রো ক্যামেরা খুব একটা কার্যকরী নয়।