সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, নতুন এই বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। গেজেট কেবল একটি নয়, বরং একাধিক খণ্ডে প্রকাশিত হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
গত ৩১ আগস্ট সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নতুন এই বেতন স্কেলের অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশাবলী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত সচিব কমিটির সুপারিশগুলো মন্ত্রিসভায় বিস্তারিত পর্যালোচনার পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বেতন কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন স্কেল নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল।
নতুন এই বেতন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রাখা হলেও প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই স্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
বেতন বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ অনুপাতের পরিবর্তে নতুন বেতন স্কেলে এই অনুপাত কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি একটি বৈষম্যহীন ও যুগোপযোগী বেতন কাঠামো উপহার দেওয়ার লক্ষ্য থেকেই সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।