পনেরো দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশা প্রতিমন্ত্রীর

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ সংকট নিরসনে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে জনগণ যে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে, সরকার তার দায় এড়িয়ে যেতে চায় না। ভুল নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট হলেও শিল্প ও গৃহস্থালি খাতের চাহিদার সাথে ভারসাম্য রেখে গ্যাস সরবরাহ করতে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, পায়রা ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে বন্ধ থাকা ইউনিটগুলো দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আদানি থেকে বর্তমানে দৈনিক ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থার ৮৮ শতাংশ ইতোমধ্যে স্বাভাবিক হয়েছে এবং আগামী মাসের শুরুতে এটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বকেয়া বিলের কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, আগের ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জমে থাকা ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বকেয়া বিলের বিপরীতে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থা আরও গতিশীল করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, রাত ৮টার পর বিপণিবিতান বন্ধ রাখার নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে কার্যকর করতে সংসদ সদস্যদের সহায়তা প্রয়োজন। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে রুফটপ সোলার বা ছাদের ওপর সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তারা উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ১০.৫০ টাকা দরে সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য তিন বছরের মধ্যে মূলধন তুলে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

বিগত দেড় দশকের ভুল নীতি ও অপর্যাপ্ত বিনিয়োগের কারণে বিদ্যুৎ খাতের এই ভঙ্গুর দশা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বাড়ানো হলেও সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি। জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্যহীনতা এবং একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই বর্তমান সংকটের মূল কারণ। তবে সরকার এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক বিদ্যুৎ অবকাঠামো তৈরিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

০%
০%
০%
০%