গাইবান্ধায় জলাবদ্ধতা দূর করতে তিনশ একর জমির কৃষকদের স্বেচ্ছায় খাল খনন

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ও খোলাহাটি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ঝিনিয়ার বিলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ৭৫ নম্বর রেলগেট এলাকার পাশে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

স্থানীয় কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, কুপতলা ও খোলাহাটি ইউনিয়নের মাঝামাঝি অবস্থিত ঝিনিয়ার বিলে প্রায় ৩০০ একর আবাদি জমি রয়েছে। শুকনো মৌসুমেও এ বিলে জলাবদ্ধতা থাকায় প্রতিবছর ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশেষ করে ইরি-বোরো মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই জমিতে পানি জমে যায়। ফলে কৃষকদের পানির মধ্য থেকেই ধান কেটে ঘরে তুলতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হয়। এমনকি আমন মৌসুমেও একই কারণে চাষাবাদ ব্যাহত হয়ে আসছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সংকট নিরসনে এর আগে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত নিজেদের দুর্ভোগ লাঘব এবং কৃষিজমির পানি নিষ্কাশনের পথ সুগম করতে নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে পুরোনো এই খালটি পুনঃখননের কাজ শুরু করেন এলাকাবাসী।

কৃষকরা জানান, ঝিনিয়ার বিলের পুরোনো এই খালটি ঝিনিয়ার বিল থেকে শুরু হয়ে টাকিমারী বিল হয়ে ঘাঘট নদীতে গিয়ে সংযুক্ত হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার ও খনন না করায় পলি জমে খালটি অনেকাংশে ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে বৃষ্টির পানি ও বিলের অতিরিক্ত পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। বর্তমান সরকার জনবান্ধব সরকার হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় খাল খননের কর্মসূচি হাতে নেওয়ায়, ঝিনিয়ার বিলের এই খালটি স্থায়ীভাবে পুনঃখননের জন্য সরকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচালিত এই খাল খনন কার্যক্রমে দুই ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক জমির মালিক ও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মাল সম্পাদক ও কুপতলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী জামিনুল ইসলাম, দাওয়াহ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ইউসুফ ইকবাল, কুপতলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির শাকিল প্রামাণিক, সেক্রেটারি জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

০%
০%
০%
০%