Advertisement

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবনে প্রাণ ফিরছে স্বাভাবিকতা বাড়ছে বন্য প্রাণীর বিচরণ

বাগেরহাটের সুন্দরবনের গহিনে তিন মাসের দীর্ঘ বিরতির পর প্রাণপ্রকৃতিতে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। বন্য প্রাণীর অবাধ বিচরণ ও জলজ সম্পদের স্বাভাবিক প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতি বছরের মতো এবারও ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক, জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। এই তিন মাস মানুষের কোলাহল ও যান্ত্রিক শব্দদূষণমুক্ত থাকায় বনের স্বাভাবিক প্রতিবেশব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং নদী-খালে মাছের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে বাঘ, হরিণসহ বন্য প্রাণীরা নির্বিঘ্নে প্রজননের সুযোগ পেয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্মার্ট প্যাট্রলিং ও ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি জোরদার করায় বন অপরাধের হারও আগের তুলনায় কমেছে। বন বিভাগ এই তিন মাসে ৬৩টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৩৯টি মামলা দায়ের করেছে। এই অভিযানে ৩৭ জনকে আটক করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বিষ, হরিণ শিকারের ফাঁদ, জাল এবং অবৈধভাবে আহরণ করা জলজ সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নির্দিষ্ট সময় মানুষের চাপ কমিয়ে আনা অপরিহার্য। সুন্দরবন কেবল বাঘ ও হরিণের আবাসস্থল নয়, এটি অসংখ্য বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীরও নিরাপদ আশ্রয়। দীর্ঘ বিরতির পর বনের এই প্রতিবেশব্যবস্থা নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার যে সুযোগ পেয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে সুন্দরবন সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সুন্দরবনের দ্বার আবারও উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, বনজ সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বৈধ পাস-পারমিট প্রদান ও প্রবেশ ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে। পর্যটক ও পেশাজীবীরা পুনরায় বনে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কড়া নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালে ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানের সুপারিশ অনুযায়ী সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সাল থেকে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এই নিষেধাজ্ঞার সময়কাল ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। দীর্ঘ এই সময়ে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল কর্মহীন জেলেদের সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে।

0%
0%
0%
0%