Advertisement

প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলেই মিলবে চিড়িয়াখানায় বিনা মূল্যে প্রবেশ, নতুন প্রজন্মের বিকাশে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনের

তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এক অভিনব ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে বিনা মূল্যে প্রবেশের এই বিশেষ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির মোহ থেকে বের করে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে আসাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, কেবল নির্দেশনা দিয়ে তরুণদের মানসিক বিকাশ সম্ভব নয়, বরং তাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমান সময়ের তরুণরা মোবাইল ফোন ও ভার্চুয়াল জগতের প্রতি अत्यधिक মাত্রায় আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা তাদের বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। এই স্ক্রিননির্ভরতা কমিয়ে তাদের পশুপাখি ও প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিয়ে আসতেই চিড়িয়াখানাকেন্দ্রিক এই প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনামূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশের সুযোগ পাবে। বর্তমানে চিড়িয়াখানায় জনপ্রতি প্রবেশমূল্য প্রায় ৭০ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের এই আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে। সংগৃহীত এই প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষিজমি, সমুদ্র ও সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ব্যবহৃত প্লাস্টিক যেন পরিবেশের ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্যই বর্জ্য সংগ্রহের এই উদ্যোগ। সুস্থ জাতি গঠনের এই বিনিয়োগে মুনাফার চেয়ে তরুণদের মানসিক ও পরিবেশগত সচেতনতা সৃষ্টিকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উদ্বোধনী দিনে শতাধিক শিক্ষার্থী ১০০ গ্রাম করে প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় প্রবেশের সুযোগ পায় এবং প্রত্যেককে উপহার হিসেবে একটি করে গাছের চারা দেওয়া হয়। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে অন্যান্য বিনোদন ও প্রকৃতিনির্ভর প্রতিষ্ঠানকেও অনুরূপ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।

0%
0%
0%
0%