Advertisement

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবনে ফিরছেন জেলে ও বনজীবীরা

দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন উপকূলের হাজারো জেলে ও বাওয়ালি। মাছের প্রজনন মৌসুম ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতি বছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। সেই বিরতি কাটিয়ে জীবিকার সন্ধানে বনজীবীদের মনে স্বস্তি ফিরলেও প্রথম দিনেই টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেককে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে চলতি মৌসুমে মাছ ধরা ও ইকোট্যুরিজমের জন্য ২ হাজার ৯৩৮টি বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট বা বিএলসি নবায়ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৫৯টি পাস ইস্যু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে চার শতাধিক জেলে ও বাওয়ালি সুন্দরবনে প্রবেশের ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে ভারী বর্ষণের কারণে পর্যটন নৌকার মাঝিরাও গন্তব্যে যাত্রা শুরু করতে পারেননি, যার ফলে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ তিন মাস বনে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় উপকূলীয় এলাকার জেলেদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। শ্যামনগরের জেলে শহিদুল ইসলাম জানান, ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই তাদের বনে যেতে হচ্ছে, কারণ সুন্দরবনের ওপরই তাদের জীবন ও জীবিকা নির্ভরশীল। বনজীবীদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, বিএলসি নবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরেও দালাল চক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে, যা তাদের বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে ফেলেছে।

বনজীবীদের একাংশ জীবিকার তাগিদে বনে ফিরলেও তাদের মনে জলদস্যু ও বনদস্যুদের নিয়ে আতঙ্ক রয়ে গেছে। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, বনের সার্বিক সুরক্ষায় কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন বিভাগের যৌথ টহল চলমান রয়েছে। দস্যুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

পর্যটকদের জন্য কলাগাছি ও দোবেকি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হলেও আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভ্রমণপিপাসুদের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বন কর্মকর্তারা। পর্যটক ইমরান হোসেন জানান, ম্যানগ্রোভ বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাদের যাত্রা সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে তারা সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে পুনরায় যাত্রা শুরু করবেন।

0%
0%
0%
0%