বিহারের রহস্যময় বন দেবী মন্দিরের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে দ্য ভান

রহস্য আর রোমাঞ্চের এক অনন্য মিশেলে বড় পর্দায় ধরা দিতে আসছে নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ভান’। বিহারের পাটনা শহরের অদূরে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন রহস্যময় বন দেবী মন্দিরের গায়ে লেগে থাকা গা ছমছমে লোকগাথাকে উপজীব্য করেই নির্মিত হয়েছে এই সিনেমা। নির্মাতারা জানিয়েছেন, ষোড়শ শতকে নির্মিত এই মন্দিরটি ঘিরে রয়েছে এমন কিছু অতিপ্রাকৃত ঘটনা, যা আজও স্থানীয়দের মনে ভয়ের সঞ্চার করে। সূর্যাস্তের পর মন্দিরের দরজা তো বন্ধ হয়ই, এমনকি পুরোহিতরাও ভয়ে প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। লোকশ্রুতি রয়েছে, সূর্যাস্তের পর স্বয়ং বন দেবী স্বরূপে বিচরণ করেন সেখানে, আর ঠিক সেই লোমহর্ষক আবহকেই ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করেছেন পরিচালক অরুণাভ কুমার ও দীপক কুমার মিশ্র।
এই সিনেমার নেপথ্যের গল্পটিও বেশ চমকপ্রদ। নির্মাতা অরুণাভ যখন স্থানীয় পুরোহিত ও সাধারণ মানুষের মুখে এই মন্দিরের অলৌকিক ইতিহাস শোনেন, তখনই তিনি এর সত্যতাকে সেলুলয়েডের পর্দায় তুলে আনার সংকল্প করেন। দুই বছর আগে এই রোমহর্ষক আইডিয়াটি দীপক মিশ্রর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পর তা দারুণভাবে আকর্ষণ করে তাঁদের। পরবর্তীতে প্রখ্যাত প্রযোজক একতা কাপুর এই গল্পের সম্ভাবনা দেখে একে বড় পর্দায় রূপ দেওয়ার পরামর্শ দেন। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে প্রাচীন মিথ ও প্রযুক্তির নিখুঁত মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন নির্মাতারা।
চলচ্চিত্রটিতে দর্শকদের এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতায় নিয়ে যেতে প্রচুর উন্নত প্রযুক্তি ও অ্যানিমেশনের সূক্ষ্ম কারুকাজ ব্যবহার করা হয়েছে। দীপক মিশ্রর মতে, সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যকল্প এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা দর্শকদের এক অজানা জগতের মুখোমুখি দাঁড় করাবে। এই ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট বা কারিগরি দিকগুলো এতটাই সাবলীল যে, দর্শক হয়তো বুঝতেই পারবেন না পর্দার নেপথ্যে কতটা জটিল প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে।
শোভা কাপুর ও একতা কাপুর প্রযোজিত এই মেগাবাজেট সিনেমাটিতে জুটি বেঁধেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা সিদ্ধার্থ মলহোত্রা এবং লাস্যময়ী অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়া। সব মিলিয়ে ‘দ্য ভান’ কেবল একটি হরর সিনেমা নয়, বরং এক রহস্যময় লোকগাথার আধুনিক ও জমকালো উপস্থাপনা হতে যাচ্ছে। সিনেমাটি নিয়ে এখন থেকেই সিনেপ্রেমীদের মধ্যে বাড়ছে ব্যাপক উত্তেজনা।
