জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ ২৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার, বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলা ১৩৮৩ সনের ১২ ভাদ্র তিনি পরলোকগমন করেন। শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা এই কবির স্মরণে গভীর শ্রদ্ধাভরে দিনটি পালন করছে জাতি।
বিদ্রোহী কবি হিসেবে খ্যাত নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে দুখু মিয়া ডাকনামে পরিচিত এই গুণীজন চরম দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেই বেড়ে ওঠেন। মাত্র ২৩ বছরের বর্ণাঢ্য সাহিত্যজীবনে কবিতা, গান, উপন্যাস ও নাটকসহ শিল্পের নানা শাখায় তিনি রেখে গেছেন কালজয়ী সব সৃষ্টির স্বাক্ষর।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে সপরিবারে কবিকে বাংলাদেশে আনা হয়। সেই সময় তাকে জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রিতে ভূষিত করে এবং ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে নাগরিকত্ব প্রদান করে। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।
কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমবেত হবেন। সেখান থেকে শোভাযাত্রা সহকারে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হবে। এছাড়াও কবির সমাধি প্রাঙ্গণে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কবির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাণী প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, নজরুলের সংক্ষিপ্ত অথচ সমৃদ্ধ সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তার লেখনী যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।
রিজভীর ভাষ্যমতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সাম্য ও মানবতার জয়গানে কাজী নজরুল ইসলাম আজও চিরকালীন দ্রোহের প্রতীক। তার সাহিত্য ও সংগীত দেশপ্রেম ও ন্যায়ের পথে চলার প্রেরণা হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কবির আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
