Advertisement

ক্ষেতলালে নলকূপের মালিকানা দ্বন্দ্বে ১৫০ বিঘা জমিতে আমন চাষ অনিশ্চিত

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের রসুলপুর মৌজার দাওয়ারপুকুর এলাকায় গভীর নলকূপের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় ১৫০ বিঘা জমির সেচ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। নলকূপের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার খুলে নেওয়াসহ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দরজায় ডাবল তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তীব্র দাবদাহে পানি সংকটের কারণে কৃষিজমিতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং আমনের চারা শুকিয়ে নষ্ট হতে শুরু করেছে।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে বর্তমানে আমন চাষাবাদ পুরোপুরি নলকূপের পানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মালিকানা দ্বন্দ্বে নলকূপটি বন্ধ থাকায় জমিতে আগাছা দমন, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। জালাল, ইয়াকুব, জাহাঙ্গীর ও মোতালেবসহ বেশ কয়েকজন কৃষক আক্ষেপ করে জানান, মালিকদের পারস্পরিক রেষারেষির বলি হতে হচ্ছে সাধারণ কৃষকদের। অনেকের জমি পানি না পেয়ে অনাবাদি পড়ে আছে, যা তাদের জীবিকার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

বিজ্ঞাপন

নলকূপের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত দুই পক্ষের দাবি পাল্টাপাল্টি। মোতালেব হোসেনের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছেন এবং অপর পক্ষ জবরদখল করে নলকূপটি পরিচালনা করায় বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ দিয়ে ট্রান্সফরমারটি খুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের দাবি মোতালেব হোসেনকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল দেওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন। দুই পক্ষের এ সংকটে বর্তমানে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির উৎপাদন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আমন উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল।

বিজ্ঞাপন

ক্ষেতলাল পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের ভাষ্যমতে, মালিকানা বিরোধের বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে এবং উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন হলেই বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় সচল করা হবে। এ ঘটনায় স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি করে সেচ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%