বরিশালে ফল ও সবজির রসে প্রাকৃতিক খাদ্যরঙ উদ্ভাবন করে সাড়া ফেলেছেন নারী উদ্যোক্তা

বরিশালে প্রথমবারের মতো ফল ও শাকসবজি থেকে প্রাকৃতিক খাদ্য রং উদ্ভাবন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক নারী উদ্যোক্তা। কৃত্রিম রাসায়নিকের পরিবর্তে দেশি ফল, শাকসবজি, গাছের ছাল ও ফুলের রস ব্যবহার করে তিনি নিরাপদ খাদ্য রং তৈরি করেছেন। জে-টেস্টি নেস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস এ পদ্ধতি ব্যবহার করে পিঠা, লাড্ডু, কেক ও ক্যান্ডিসহ নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার প্রস্তুত করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
উদ্ভাবনী এই উদ্যোগের প্রসারে বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদের কাছে প্রাকৃতিক রঙে প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন খাদ্যপণ্য প্রদর্শন করেন জান্নাতুল ফেরদৌস। তরুণ এই উদ্যোক্তার এমন সৃজনশীল কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে তাকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার।
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে খুলনা ও ঢাকায় ছয় দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এই পদ্ধতি আয়ত্ত করেন জান্নাতুল ফেরদৌস। বর্তমানে তার উদ্ভাবিত রঙের স্থায়িত্ব ১০ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত থাকলেও, গবেষণার মাধ্যমে এই সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। সরকারি পর্যায়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি পেলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও নিরাপদ খাদ্যপণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বরিশাল বিভাগীয় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস. এম. মাহবুব আলম জানান, প্রতিবছর বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ কৃত্রিম রং আমদানি করতে হয়, যার বিপরীতে দেশীয় উপকরণের এই ব্যবহার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে সহায়ক হবে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য ক্ষতিকারক কেমিক্যালমুক্ত খাবার নিশ্চিতে এই প্রাকৃতিক রং বড় ভূমিকা রাখবে। সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ও বাজারজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এই প্রযুক্তি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
