দুই তিন দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হবে গ্যাস সরবরাহ আশা জ্বালানি মন্ত্রীর

যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে দেশের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, টার্মিনালটি সচল হওয়ার পর আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।
মন্ত্রী জানান, সঞ্চালন লাইনগুলোতে গ্যাসের চাপ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়ায় যেসব এলাকায় বর্তমানে তীব্র সংকট চলছে, সেখানে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটবে। গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে সচল করা হবে। গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং এর ফলে লোডশেডিং বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি সংকট উত্তরণে সরকারের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিদ্যুতের তথাকথিত ভূতুড়ে বিল নিয়ে চলমান অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গ্রাহকরা অভিযোগ করলেও বিল যাচাইয়ের জন্য দাপ্তরিক প্রক্রিয়ায় আসেন না। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, সম্প্রতি একটি বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণের বেশি হওয়ার দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হলেও তদন্তে দেখা গেছে, ওই বাসায় একাধিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। বর্তমান বাজারদর ও ব্যবহারের অনুপাতে ওই বিলকে অস্বাভাবিক বলে মনে করেন না তিনি।
ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় আলোচনার টেবিলে এসেছে। বিশেষ করে ভারত থেকে বিদ্যমান পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও সংবাদ সম্মেলন বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়ে গেছেন।
বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দায়ভার নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এই যান্ত্রিক ত্রুটি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। তবে সরকার এই সংকট মোকাবিলায় তৎপর রয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ কমাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
