AdvertisementAdvertisement

দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন ও উৎপাদন ব্যবস্থা

রাজবাড়ী, নাটোর, খুলনা, ঝালকাঠি ও বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তীব্র দাবদাহের মধ্যে দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা ও দৈনন্দিন কার্যক্রম। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

রাজবাড়ী জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের এমন চরম অবনতিতে জনমনে নাভিশ্বাস উঠেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি সেচনির্ভর কৃষিকাজ ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করে উৎপাদন ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নাটোরের বড়াইগ্রাম ও খুলনার রূপসা এলাকায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও প্রকট। বড়াইগ্রামে দিন-রাত মিলিয়ে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং চলছে, যার ফলে পোলট্রি ব্যবসায়ী ও মৎস্যচাষিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। রূপসার কাজদিয়া এলাকাতেও রাত-দিন অনবরত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সরকারি অফিস ও গৃহস্থালি কর্মকাণ্ড মুখ থুবড়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বয়স্ক মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন।

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় চাহিদা ও বরাদ্দের বিশাল ব্যবধানের ফলে সংকট চরমে পৌঁছেছে। উপজেলাটিতে প্রায় ৩ দশমিক ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১ দশমিক ৫ থেকে ২ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না মেলায় লোডশেডিং কমানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বাগেরহাটের চিতলমারীতেও পল্লী বিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিং জনজীবনকে অস্থির করে তুলেছে। উপজেলাটির ৪৩ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধিকাংশ সময়ই এলাকা অন্ধকারে থাকছে। তীব্র গরম আর বিদ্যুৎহীনতায় অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগীরা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা এ অচলাবস্থা নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%