কুড়িগ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভুয়া সাংবাদিকদের চাঁদাবাজি ও দৌরাত্ম্য বাড়ছে

কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাংবাদিকতার আড়ালে নামসর্বস্ব পত্রিকা, অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি বিদ্যালয়ে ঢুকে চাঁদাবাজি ও হয়রানি চালাচ্ছে। অনুমতি ছাড়া ক্লাসরুমে প্রবেশ করে ছবি ও ভিডিও ধারণের ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব ব্যক্তি ক্লাস চলাকালীন অতর্কিতে বিদ্যালয়ে হাজির হয়ে শিক্ষকদের অপ্রাসঙ্গিক ও বিব্রতকর প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন। কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ ছাড়াই সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তারা শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটরসাইকেলের জ্বালানি খরচ কিংবা আপ্যায়নের নামে অর্থ দাবি করে। বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হওয়ার ভয়ে অনেক শিক্ষক বাধ্য হয়ে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা দিয়ে তাদের বিদায় করতে বাধ্য হন, যা নিয়মিত চাঁদাবাজিতে রূপ নিয়েছে।
সম্প্রতি চিলমারী উপজেলার সোনারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া দুই ব্যক্তি প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসে অসংলগ্ন আচরণ ও টাকা দাবি করলে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। প্রধান শিক্ষক রেজিনা সুলতানা জানান, পরিচয়দানকারীরা কোনো তথ্য সংগ্রহের বদলে হয়রানি করতেই বেশি আগ্রহী ছিলেন। সহকর্মী শিক্ষকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রকৃত সাংবাদিকরা নিয়ম মেনে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করলেও, এই অপেশাদার চক্রটি কেবল চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হানা দিচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রওশন আরা বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই হয়রানি বন্ধে কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যসচিব মানোয়ার হোসেন লিটন বলেন, নামধারী এসব ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে কয়েকজন ভুয়া সাংবাদিককে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুতই এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে এ ধরনের হয়রানিমূলক অপতৎপরতা বন্ধে স্থানীয় সচেতন মহলসহ শিক্ষকরা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
