AdvertisementAdvertisement

রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা ও নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারীর বিশ্লেষণ

রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা এবং এই পদের মর্যাদা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিশ্লেষণধর্মী পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী। গত ২ আগস্ট সকালে নিজের ভেরিফায়েড পেজে প্রকাশিত এই পোস্টে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা এবং বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেন।

সংবিধানের ৪৮ ও ৫৫ অনুচ্ছেদের আলোকে নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী উল্লেখ করেন যে, যদিও রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নামে পরিচালিত হয়, তবুও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, রাষ্ট্রপতির পদটি কেবল আনুষ্ঠানিক কোনো অলংকার নয়; বরং এটি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা, জাতীয় ঐক্য এবং রাষ্ট্রের মর্যাদার প্রতীক।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারীর মতে, রাষ্ট্রপতির কর্মপরিধির মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের দায়িত্ব প্রদান। এছাড়া জাতীয় সংসদ আহ্বান, বিলে সম্মতি প্রদান, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণের মতো গুরুদায়িত্বও এই পদের অন্তর্ভুক্ত। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিশেষ ক্ষেত্রে ক্ষমা প্রদর্শন বা দণ্ড লাঘবের ক্ষমতাও রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত।

নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না, বরং জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। এর ফলে বাস্তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রভাবই চূড়ান্ত হয়ে দাঁড়ায় এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াটি অনেক সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক না হয়ে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত হয়। নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী মনে করেন, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ থাকে না বলে রাষ্ট্রপতির পদটি অনেক সময় রাজনৈতিক পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদে দলীয় আনুগত্যের চেয়ে সততা, নিরপেক্ষতা, প্রজ্ঞা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মানসিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রাষ্ট্রপতির পদটিকে আরও স্বাধীন ও সর্বজনগ্রাহ্য করার তাগিদ দিয়ে বলেন, এই পদটিকে রাজনৈতিক বলয় থেকে বের করে আনা জরুরি। তিনি সরাসরি জনগণের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কিংবা সংসদীয় পদ্ধতিতে অধিকতর স্বচ্ছ ও সর্বদলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচনের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

পরিশেষে তিনি জাতির উদ্দেশ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছুড়ে দেন, বাংলাদেশ কি এমন একজন রাষ্ট্রপতি পাওয়ার যোগ্য নয়, যিনি কেবল একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতিনিধি নন; বরং পুরো জাতির আস্থার প্রতীক ও সংবিধানের নির্ভীক রক্ষক? নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারীর মতে, রাষ্ট্রপতির পদ যত বেশি শক্তিশালী ও বিতর্কহীন হবে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি ততই সুসংহত হবে।

0%
0%
0%
0%