আগস্টে টানা চার দিনের ছুটির হাতছানি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য

কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রিয়জনের সান্নিধ্যে সময় কাটানোর এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য। আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকায় মাঝের একটি দিন নৈমিত্তিক ছুটি গ্রহণ করলে টানা চার দিনের অবকাশ যাপনের সুযোগ পাচ্ছেন তারা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৫ আগস্টের ছুটির পরের কর্মদিবস ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার ছুটি নিলে তার সাথে ৭ ও ৮ আগস্টের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে মোট চার দিনের দীর্ঘ ছুটি পাওয়া সম্ভব।
তবে এই ছুটির আনন্দ সবার জন্য সমান নয়। জরুরি ও জনসেবামূলক খাতের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই সুযোগের বাইরে থাকছেন। হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, বন্দর, বিমানবন্দর, রেলপথ, গণপরিবহন, কারাগার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ যেসব দপ্তরে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান বাধ্যতামূলক, সেখানে কর্মরতদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এসব জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জন্য নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর করা হবে না।
আগস্ট মাসে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কেবল এই একটি নয়, বরং আরও একটি দীর্ঘ ছুটির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৬ আগস্ট পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এক্ষেত্রে ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার একদিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিতে পারলে ২৮ ও ২৯ আগস্টের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে আবারও টানা চার দিনের অবকাশ মিলতে পারে। তবে ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটির বিষয়টি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় চূড়ান্ত ছুটির দিনক্ষণ চাঁদ দেখার পরই নিশ্চিত করা হবে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জনসেবামূলক কাজের পাশাপাশি কর্মীদের মানসিক সতেজতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারি ছুটির এই ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করেছে। অবশ্য জরুরি সেবার ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কঠোর নিয়ম বজায় রাখা হয়েছে। ফলে সব দপ্তরের কর্মীরা একযোগে এই দীর্ঘ ছুটি উপভোগ করতে পারবেন না। মূলত দাপ্তরিক কাজের জরুরি প্রয়োজন এবং জনসেবার গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই ছুটির বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে।
