বন্যায় সবজিক্ষেত তলিয়ে বাজারে আগুন দাম বিপাকে সাধারণ ক্রেতা

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার প্রভাবে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এবং মানিকগঞ্জের শিবালয়সহ সারা দেশে সবজির বাজারে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থার চরম বিপর্যয় ঘটেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের সবজির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
লোহাগাড়ার আমিরাবাদ বটতলী কাঁচাবাজারে সরেজমিন দেখা যায়, ঝিঙে ১০০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা, শসা ১৩০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বন্যার আগে এসব সবজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে পাওয়া যেত। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, বন্যায় ৯ হাজার ৪০০ জন কৃষকের ১৫০ হেক্টর সবজিক্ষেত ও ৩৬০ হেক্টর আমন বীজতলাসহ প্রায় ৫ কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকার ফসল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ফটিকছড়ি, ফেনীসহ দূরবর্তী এলাকা থেকে সবজি আমদানি করতে হচ্ছে, যা পরিবহণ খরচ বাড়িয়ে পণ্যমূল্য আকাশচুম্বী করেছে।
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার চিত্রও একই। বৃষ্টির অজুহাতে কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, বৈরী আবহাওয়ায় সবজিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে পর্যাপ্ত সবজি নেই। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারের প্রতিটি সবজি এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে, যার ফলে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা বজায় রাখাই দায় হয়ে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সবজির বাড়তি দাম নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ক্রেতারা।
