AdvertisementAdvertisement

আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তর ও বিমান বহর আধুনিকায়নে সরকারের মহাপরিকল্পনা

বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তর এবং জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থাকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে পর্যটন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বিমানবন্দরের সেবার মান উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ এবং বিশ্বমানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রী জানান, যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে লাগেজ ব্যবস্থাপনা ও ইমিগ্রেশন সেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কঠোর আচরণবিধি বা কোড অব কন্ডাক্ট কার্যকর করা হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি চলছে। লাগেজ নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভিজিল্যান্স টিম, সিসিটিভি নজরদারি এবং অত্যাধুনিক ব্যাগেজ রিকনসিলিয়েশন সিস্টেম চালুর ফলে সেবা প্রদানের সময় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে একটি আন্তর্জাতিক মানের ও সাশ্রয়ী এয়ারলাইন্সে উন্নীত করার লক্ষ্যে বহরে নতুন ২৪টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং ও ১০টি এয়ারবাস থাকবে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করা হবে। এছাড়া চলতি বছর লিজের মাধ্যমে নতুন পাঁচটি উড়োজাহাজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যার জন্য ইতিমধ্যে ৪০টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়াকে এ খাতের বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাহরাইন, মালে, জাকার্তা, সিউল, সিডনি, কুনমিং ও নিউইয়র্কের মতো নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পর্যটন খাতের প্রসারে সরকার ভিসা নীতিমালা-২০২৬ প্রণয়ন করেছে, যেখানে ই-ভিসা চালুর পাশাপাশি মেডিকেল ট্যুরিজম ও রিলিজিয়াস ট্যুরিজম ভিসার মতো বিশেষায়িত উদ্যোগ রয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও আধুনিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য বলে জানান মন্ত্রী।

আগামী এক বছরের মধ্যেই বিমানবন্দর সেবার মানোন্নয়ন ও পর্যটন অবকাঠামোয় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আফরোজা খানম। সুশাসন, মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং জবাবদিহিতাকে মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করে বিশ্বমানের এভিয়েশন হাব ও টেকসই পর্যটন শিল্প গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর। বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সামগ্রিক সংস্কার কার্যক্রম বাংলাদেশের আকাশপথের আন্তর্জাতিক উপস্থিতিকে আরও সুদৃঢ় করবে।

0%
0%
0%
0%