ধর্মের নামে বিভাজনের সুযোগ নেই, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশে ধর্মের নামে কোনো প্রকার বিভাজন বা অস্থিরতা সৃষ্টির অবকাশ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ এ দেশের সমান মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করছে।
ঐতিহ্যগতভাবে শতাব্দীকাল ধরে এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করে আসছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। সনাতন সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদেরকে তিনি কখনোই সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচনা করেন না; বরং তারা এ রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ ও সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল সব মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা। সেই আদর্শের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন করতে হবে, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে নাগরিক পরিচয়ই হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
একটি মহল ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জাতীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি উগ্রবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কোনো স্থান নেই। দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার সব ধর্মাবলম্বীর জানমাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে দুর্গাপূজা ও রথযাত্রার মতো ধর্মীয় উৎসবগুলো যাতে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়, সেজন্য সরকার নিরাপত্তা ও সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।
সনাতন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় সরকারের কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সমঅধিকারের মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার ও ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
