মোহাম্মদপুরে দুর্বৃত্তের হামলায় ইমিগ্রেশন পুলিশের উপপরিদর্শক গুরুতর আহত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিং এলাকায় দুর্বৃত্তদের অতর্কিত ধারালো অস্ত্রের হামলায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের উপপরিদর্শক ওসমান গনি গুরুতর আহত হয়েছেন। গত ২৩ জুলাই রাত ৯টার দিকে পরিবারের সঙ্গে বাসায় ফেরার পথে এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকরা তার পিঠে ৪৩টি সেলাই দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় উপপরিদর্শক ওসমান গনি তার স্ত্রী তানজিনা সীমা এবং সন্তানকে নিয়ে কাদেরাবাদ হাউজিংয়ের প্রধান সড়ক দিয়ে হেঁটে ফিরছিলেন। এ সময় পেছন থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি অতর্কিতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পিঠে আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। আক্রান্ত হওয়ার পরও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি হামলাকারীকে ধাওয়া করার চেষ্টা করেন, তবে শেষ পর্যন্ত তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা প্রথমে তাকে নিকটস্থ একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলেও ক্ষত গভীর হওয়ায় পরবর্তীতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর পিঠের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম রয়েছে এবং ক্ষতস্থানের গভীরতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার তদন্তে নেমে মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক রাকিবুজ্জামান তালুকদার জানিয়েছেন, এটি কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা নয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বরং পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের বিশেষ দল মাঠে কাজ করছে।
তেজগাঁও বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভুক্তভোগীর জবানবন্দি ও পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি একটি পরিকল্পিত অপরাধ। এখন পর্যন্ত জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলেও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারেক রহমান সরকারের আমলে পুলিশের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় এলাকায় জনমনে গভীর ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
