ইসলামী ব্যাংকের সংস্কারে সাত দফা দাবির প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সমর্থন

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান সংকট নিরসন ও ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে উত্থাপিত সাত দফা দাবির প্রতি নীতিগত সমর্থন জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তরে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গভর্নর এই ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। এর আগে মঙ্গলবার ভুক্তভোগী শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

বৈঠক শেষে সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক নুর উন নবী জানান, ব্যাংকের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে পর্ষদ পুনর্গঠনসহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে গভর্নর একমত পোষণ করেছেন। সংগঠনের সদস্যসচিব মোতাছিম বিল্লাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বিশেষ করে যারা আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের কোনোভাবেই পর্ষদে রাখা যাবে না এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নৈতিক ও আদর্শিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ ও নিরপেক্ষ হতে হবে।

গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে অবিলম্বে সৎ, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৭ সালে বিতর্কিত উপায়ে কেড়ে নেওয়া মালিকানা ব্যাংকের প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হয়েছে। বিদায়ী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় যারা এস আলমসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুন্ঠন করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবিও জোরালো হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান আতঙ্ক দূর করতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পরিহার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান গুজব রোধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছে ফোরাম। এছাড়া পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন এবং অর্থঋণ আদালতে বিশেষ সেল তৈরি করে লুটেরাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা সংশোধন করে লুটেরা ও তাদের সুবিধাভোগীদের পরিচালনা পর্ষদ থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইসলামী ব্যাংকের অগ্রযাত্রা ও আস্থার সংকট নিরসনে গ্রাহক ফোরামের দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে তা ব্যাংকটির স্থিতিশীলতায় সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় সংসদে ব্যাংকটি নিয়ে দেওয়া সাম্প্রতিক বিতর্কিত বক্তব্য অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যথাযথ উদ্যোগের মাধ্যমেই আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

0%
0%
0%
0%