সহকর্মীর মায়ের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার নজির গড়লেন কাজী নওশাবা আহমেদ

মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ। সহকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মী ক্যামেলিয়া শারমিনের মায়ের ক্যানসার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘টুগেদার উই ক্যান’-এর ব্যানারে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে আয়োজিত হয় মঞ্চনাটক ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’। ২০১৮ সাল থেকে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা নওশাবা বিশ্বাস করেন, থিয়েটার মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। সহকর্মীর লড়াইকে নিজের লড়াই হিসেবে গ্রহণ করে তিনি প্রমাণ করেছেন, শোবিজ জগতের আলোকছটার বাইরেও মানবিকতার এক অন্য জগৎ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঞ্চনাটকের প্রতি অগাধ ভালোবাসার পাশাপাশি নওশাবা এখন নিজেকে মেলে ধরছেন সৃজনশীল কাজের বহুমুখী ধারায়। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি সর্বদা সচেষ্ট। নিজের প্রতিটি কর্মসূচিতে চারাগাছ উপহার দেওয়া তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, যেন তরুণ প্রজন্ম প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে থাকতে শেখে। তাঁর দীর্ঘ আট বছরের অভিনয় জীবনে মঞ্চই এখন প্রধান আশ্রয়স্থল। ‘ত্রিবেনী’ বা ‘মুক্তি আলোয় আলোয়’-এর মতো নাটকের নির্দেশনা দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, নির্মাণের জায়গাতেও তিনি সমান পারদর্শী।

পরিচালনার খাতায় নাম লিখিয়ে নওশাবা উপহার দিয়েছেন তাঁর প্রথম সিনেমা ‘সোমেশ্বরী’। চিত্রনাট্যকার হিসেবেও নতুন নতুন গল্প বুনছেন তিনি। তবে ভালো সিনেমা তৈরির ক্ষেত্রে প্রযোজক সংকট তাঁর দীর্ঘদিনের আক্ষেপ। ক্যামেরা এবং শুটিং ফ্লোরের উত্তেজনাকে তিনি ভীষণ মিস করেন। নুহাশ হুমায়ূনের ‘২ ষ’-এর ‘অন্তরা’ চরিত্রটি তাঁকে ক্যারিয়ারে নতুন প্রাণ দিয়েছিল, যার সুবাদে তিনি নিজেকে আবারও নতুনভাবে আবিষ্কার করেন। সাদত হাসান মান্টোর গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’ চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয়ও বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

বর্তমানে নওশাবা নিজেকে সাজাচ্ছেন নতুন ছকে। অভিনয় ও নির্মাণের পাশাপাশি গান নিয়েও তাঁর আগ্রহের কমতি নেই। যদিও নিজের কণ্ঠ নিয়ে বিনয়ী এই অভিনেত্রী, তবুও থিয়েটারের প্রয়োজনে সবকিছু শেখার অদম্য ইচ্ছাই তাঁকে এগিয়ে নিচ্ছে। সব সংকট কাটিয়ে মঞ্চ, সিনেমা আর গান নিয়ে সারা দেশে সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটানোই এখন নওশাবার মূল লক্ষ্য। চাতক পাখির মতো ভালো কাজের অপেক্ষায় থাকা এই অভিনেত্রী এখন সুসময়ের অপেক্ষায়, যেখানে সৃজনশীলতা আর মানবিকতা মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%