লামায় জরাজীর্ণ এতিমখানায় মৃত্যুঝুঁকিতে ৪৫ শিশু শিক্ষার্থীর পাঠদান

বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদ রুপসীপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত ‘রুপসীপাড়া ইসলামিয়া এতিমখানা’ বর্তমানে চরম সংকটের মুখে পড়েছে। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ৪৫ জন কোমলমতি এতিম ও দুস্থ শিশু অত্যন্ত মানবেতর পরিবেশে জীবনযাপন করছে। জরাজীর্ণ টিনের বেড়ার দুই কক্ষ বিশিষ্ট এই ঘরটিতে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়া শিশুদের দিন কাটে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ শিক্ষার্থীই পিতৃ-মাতৃহীন কিংবা দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সরেজমিনে দেখা যায়, মাদরাসার টিনের বেড়া ও ছাউনি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, যার ফলে বৃষ্টির সময় পানি পড়ার পাশাপাশি সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। নড়বড়ে খুঁটি ও ভগ্নপ্রায় দরজার কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। এছাড়া সীমানা প্রাচীর না থাকায় এতিমখানার জায়গাটিও বেদখলের শিকার হচ্ছে, যা শিশুদের নিরাপত্তাকে আরও হুমকির মুখে ফেলেছে।

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ধর্ণা দিয়েও মেলেনি কোনো সরকারি বরাদ্দ। বর্তমানে মাত্র ২ জন শিক্ষক দিয়ে হেফজ ও নূরানী শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যেখানে ৪৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৮ জন সরকারি ক্যাপিটেশন ও গ্রান্ট সুবিধা পায়। বাকি ২৭ জন শিক্ষার্থীর অন্নসংস্থান ও শিক্ষা ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিচালনা কমিটি। এর ওপর নেই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, নেই মানসম্মত বসবাসের পরিবেশ।

স্থানীয় সমাজসেবকরা জানিয়েছেন, এই অবুঝ শিশুদের ভাগ্যের ডায়েরি বড় বেশি মলিন, অথচ তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি দীর্ঘকাল ধরে উপেক্ষিত। এতিমখানাটির ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর স্থাপন এবং অবশিষ্ট ২৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য সরকারি ক্যাপিটেশন ও গ্রান্ট সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। মানবিক বিপর্যয় রোধে ও এতিম শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%