অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের পথে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামীকাল শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন বলে বঙ্গভবনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শারীরিক জটিলতার বিষয়টি সামনে এনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সূত্রগুলোর দাবি, শুক্রবার দুপুরের নাগাদ তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করতে পারেন।
বঙ্গভবনের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি বা ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি নিশ্চিত বলে গণ্য করা যাচ্ছে না।
এরই মধ্যে বিএনপির একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র দাবি করেছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান নানা হিসাব-নিকাশের মাঝে এই পদত্যাগের গুঞ্জন পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দিয়েছে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং একই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে ওপেন হার্ট সার্জারির মধ্য দিয়ে যান। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় তার হৃদযন্ত্রে ব্লক ধরা পড়লে এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট প্রতিস্থাপনের মতো জটিল চিকিৎসাও সম্পন্ন হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তিনি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে ভূমিকা রেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নতুন সরকারকে শপথবাক্য পাঠ করান, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এখন রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্বে বহাল থাকবেন কি না, তা নিয়ে দেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।
