মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিল নিয়ে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিরোধীদলীয় নেতার উদ্বেগ

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বা সাবেক পিজি হাসপাতালের নতুন বিল নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপনের পরপরই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন যে, প্রতিষ্ঠানটিকে মুনাফামুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবাকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগালের বাইরে ঠেলে দেবে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার সূত্রপাত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার। দেশে নতুন করে কয়েকটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা এখনো গড়ে ওঠেনি। এ অবস্থায় মূল প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক ও অলাভজনক—এই দুই কাঠামোর ভিত্তিতে বিভক্ত করে শেয়ারিংয়ের ব্যবস্থা করলে চিকিৎসার খরচ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচালিত বর্তমান সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে এই বিলের ভাবনা সাংঘর্ষিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বাজেট পাসের সময় জনগণের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর জন্য বিভিন্ন কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু প্রস্তাবিত এই বিল কোনো কোম্পানিকে বিনিয়োগ ও মুনাফা অর্জনের সুযোগ দিলে স্বাস্থ্য খাতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। এতে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার চেয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার ঝুঁকিই বেশি থেকে যায়।
সদস্যের উত্থাপিত এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আশ্বস্ত করে জানান, বিলটি বর্তমানে কেবল উত্থাপন পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তীতে যখন এটি বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদে পেশ করা হবে, তখন এ বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় সময় বরাদ্দ রাখা হবে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিলটির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে বিল উত্থাপনের পাশাপাশি সংসদীয় বিশেষ কমিটির কার্যক্রমে দায়িত্বহীনতার বিষয়টিও উঠে আসে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলামের বক্তব্যে। তিনি অভিযোগ করেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওই কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সভার নোটিশ তাকে যথাসময়ে প্রদান করা হয়নি। তিনি জানান, কমিটির সভা সকাল ১০টায় নির্ধারিত থাকলেও সভার খবর জানানো হয়েছে মাত্র ৪০ মিনিট আগে, যা একজন সংসদ সদস্যের পক্ষে উপস্থিত হওয়া কার্যত অসম্ভব।
রফিকুল ইসলামের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্পিকার অসন্তোষ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে বিশেষ কমিটির সভাপতিকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। সংসদের ভেতরে বা বাইরে যেন কোনোভাবেই এমন নেতিবাচক ধারণা তৈরি না হয় যে সভার নোটিশ যথাসময়ে দেওয়া হয় না, সে বিষয়ে স্পিকার কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রতিটি সদস্যকে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে অবহিত করার মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য তিনি বিশেষ কমিটির সভাপতিকে অনুরোধ জানান।