বেনজীরকে ফেরাতে আমিরাতের উত্তরের অপেক্ষায় সরকার এবং ওসমান হাদি হত্যায় জড়িতদের প্রত্যর্পণের আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থান ও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বেনজীরকে গ্রেপ্তারের পর আবুধাবি ফেডারেল পুলিশ ই-মেইলের মাধ্যমে তাদের অবহিত করেছিল এবং তাকে দেশে ফেরানোর জন্য ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়েছিল। সরকার তিন দিনের মধ্যেই সেই নথিপত্র প্রস্তুত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবুধাবিতে পাঠিয়েছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বিজিবি অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কাউকে পুশইন করতে দেওয়া হয়নি। কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যদি ওপারে আটকা পড়ে থাকেন, তবে ভারত সরকারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তালিকা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে ভারত সরকার গ্রেপ্তার করেছে এবং তারা সম্ভবত কলকাতায় রয়েছেন। ভারতের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সেখানে মামলা চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এক্সট্রাডিশন বা বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় যাবতীয় নথিপত্র আগেই হস্তান্তর করেছে। আসামিদের ফিরিয়ে আনা গেলে মামলার অসম্পূর্ণ তদন্ত শেষে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মাদকবিরোধী দিবসের মূল অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকের বিস্তার রোধে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই আইনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আধুনিক অস্ত্র প্রদান, বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং সশস্ত্র মাদক কারবারিদের মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী মাদক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ১৯৮৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তের পর থেকে প্রতিবছর ২৬ জুন সারা বিশ্বে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ওয়ার্ল্ড ড্রাগ প্রবলেম: পার্সিস্টেন্ট ইস্যুজ, নিউ চ্যালেঞ্জেস, ইনোভেটিভ রেসপন্সেস’। অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতায় বিশেষ অবদান রাখা ২১ শিক্ষার্থী, ৩ কর্মকর্তা ও ৩টি নিরাময়কেন্দ্রকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ও পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।