ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে গঠিত হচ্ছে বিশেষ টাস্কফোর্স

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের তত্ত্বাবধানে গঠিত এই টাস্কফোর্স মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি, জরুরি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব পালন করবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মন্ত্রী সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।

গঠিত এই জাতীয় কমিটিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, পরিবেশ, প্রতিরক্ষা, রেলপথ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও কমিটিতে দায়িত্ব পালন করবেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর দেশজুড়ে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ২২০ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্ষা মৌসুমের প্রারম্ভেই আক্রান্তের এই ঊর্ধ্বগতি জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রাক-বর্ষা জরিপে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। শহরের ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতেই এডিস মশার ঘনত্ব সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু সংক্রমণের জন্য অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০০০ সাল থেকে সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। সেই বছর রেকর্ড ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১০৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকনগুনিয়ার প্রকোপও বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্পর্কিত- টাস্কফোর্স গঠন
0%
0%
0%
0%